নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে, জামাতের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহ নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ধারাবাহিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনের শীর্ষে থাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৪,৫২,৪২৫ জনের মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটার প্রায় সমান ভাগে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার চুরি, ছিঁড়ে ফেলা এবং অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কাজের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে উঠলেও প্রশাসন থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না পাওয়ায় প্রার্থী নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এই সমস্যার প্রেক্ষিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সিসি ক্যামেরা আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে, নির্বাচনী ব্যানারের ঠিক উপরে স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরার দৃশ্যমানতা বাড়াতে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছাকাছি একটি স্থানে এটি বসানো হয়েছে, যাতে কোনো অনধিকারী ব্যক্তি ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে দ্বিধা করে। ক্যামেরা রেকর্ডিং সরাসরি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত, ফলে কোনো ঘটনার রেকর্ড তৎক্ষণাৎ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
মো. ছাইফ উল্লাহ জানান, ব্যানার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা বারবার ঘটায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। তাই তিনি নিজের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে এই ধরণের অপরাধকে নিরুৎসাহিত করার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রচারণার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকল প্রার্থীর দায়িত্ব এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন এই দায়িত্বের একটি বাস্তবিক প্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যানার ও পোস্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভোটারদের কাছে প্রার্থীর সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সোনাইমুড়ী উপজেলার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাছরিন আকতার জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি অভিযোগের ওপর সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে একটি সহায়ক উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করবে।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫২,৪২৫, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৩৩,৭১১ এবং নারী ভোটার ২,১৮,৭১৪। এই সংখ্যাগুলোকে ভিত্তি করে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন ব্যানার ও পোস্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর বার্তা পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যমই এই উপকরণগুলো।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যানার চুরির ঘটনা কমে গেলে প্রার্থীর প্রচারণা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে, যা ভোটারদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে, অন্যান্য প্রার্থীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন, ফলে নির্বাচনী পরিবেশে সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, জামাতের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহের সিসি ক্যামেরা স্থাপন উদ্যোগটি নোয়াখালীর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার একটি বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রচারণার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।



