মঙ্গলবার রাতের দিকে এক্সআইএআই কর্মীদের জন্য একটি সর্বসাধারণিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করেন এলন মাস্ক, যিনি কোম্পানির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং চাঁদে সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। এই সভা টেকসই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ সংযুক্তি নিয়ে নতুন কৌশল উপস্থাপন করে।
সেই সভায় এলন মাস্ক এক্সআইএআই-কে চাঁদে একটি উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চাঁদে একটি কারখানা স্থাপন করে এআই স্যাটেলাইট তৈরি করা এবং বিশাল ক্যাটাপাল্টের মাধ্যমে সেগুলোকে মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হবে। এই ধারণা কোম্পানির কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিযোগীদের তুলনায় অগ্রগতি অর্জনে সহায়ক হবে।
এলন মাস্কের মতে, চাঁদে পৌঁছানো এখন আর বিকল্প নয়, বরং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, বৃহৎ স্কেলের বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করবে তা কল্পনা করা কঠিন, তবে তা বাস্তবায়িত হলে তা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য চাঁদে কারখানা এবং ক্যাটাপাল্টের ব্যবহার অপরিহার্য বলে তিনি জোর দেন।
তবে সভায় চাঁদে কারখানা গড়ার নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা বা এক্সআইএআই-স্পেসএক্স একীভূত সংস্থার পুনর্গঠন কিভাবে হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এলন মাস্ক এই বিষয়গুলোকে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয় হিসেবে রেখে দেন। একই সঙ্গে তিনি কোম্পানির বর্তমান পরিবর্তনশীল অবস্থার স্বীকৃতি দেন।
এলন মাস্ক উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকে। তিনি এক্সআইএআইকে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়া সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অন্য কোনো কোম্পানি তার কাছাকাছি নয় বলে উল্লেখ করেন। এই দ্রুতগতি কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
অধিকন্তু, তিনি বলেন যে কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীদের ভূমিকা ভিন্ন হতে পারে। কিছু কর্মী প্রারম্ভিক পর্যায়ে উপযুক্ত, তবে পরবর্তী পর্যায়ে তাদের জন্য উপযুক্ততা কমে যেতে পারে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সংস্থার গঠন ও মানবসম্পদ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সেই একই সপ্তাহে এক্সআইএআই-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা টনি উউ সোমবার রাতেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি কোম্পানির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে তার মতামত জানিয়ে চলে যান। টনি উউর পদত্যাগের পরপরই আরেকজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি বাও, যিনি সরাসরি এলন মাস্কের অধীনে কাজ করতেন, একই সিদ্ধান্ত নেন।
জিমি বাওর পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এক্সআইএআই-র প্রতিষ্ঠাতা দলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মোট বারোজন প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে ছয়জন এখন পর্যন্ত কোম্পানি ছেড়ে গেছেন। এই পরিবর্তনগুলোকে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
একই সময়ে, স্পেসএক্সের সম্ভাব্য আইপিওর কথা শোনা যাচ্ছে, যার মূল্যায়ন প্রায় $১.৫ ট্রিলিয়ন হতে পারে এবং গ্রীষ্মের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইপিওর সফলতা উভয় সংস্থার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক্সআইএআই-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চাঁদে উৎপাদন সুবিধা গড়ার ধারণা এলন মাস্কের সাম্প্রতিক আগ্রহের অংশ হিসেবে দেখা যায়। তিনি পূর্বে মহাকাশে মানব বসতি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করেছেন, এবং এখন এআই প্রযুক্তি ও মহাকাশের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করছেন। এই কৌশলটি এক্সআইএআইকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে অগ্রগামী রাখতে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, এক্সআইএআই-র সর্বসাধারণিক সভায় এলন মাস্ক চাঁদে কারখানা গড়ার পরিকল্পনা উন্মোচন করেন, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাতা দলের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও স্পেসএক্সের সম্ভাব্য আইপিওর তথ্য শেয়ার করেন। এই সব বিষয় একসাথে কোম্পানির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং আর্থিক সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



