29 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইউকে নরওয়েতে সৈন্য সংখ্যা দ্বিগুণ, আর্কটিক নিরাপত্তা বাড়াতে ন্যাটো পরিকল্পনা

ইউকে নরওয়েতে সৈন্য সংখ্যা দ্বিগুণ, আর্কটিক নিরাপত্তা বাড়াতে ন্যাটো পরিকল্পনা

ইউনাইটেড কিংডমের ডিফেন্স সেক্রেটারি জন হিলি ২০২৬ সালের মধ্যে নরওয়েতে স্থাপিত ব্রিটিশ সৈন্যের সংখ্যা প্রায় এক হাজার থেকে দুই হাজারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা সামরিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে।

হিলি উল্লেখ করেন, রাশিয়া আর্টিক ও হাই নর্থের নিরাপত্তার ওপর যে হুমকি তৈরি করছে তা শীতল যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বেশি। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ন্যাটো মিত্র দেশগুলো একত্রে আর্কটিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চালু করেছে।

বিদেশ মন্ত্রী ইয়েভেট কোপার প্রস্তাবিত “আর্কটিক সেন্ট্রি” প্রকল্পটি ন্যাটোর বিদ্যমান “বাল্টিক সেন্ট্রি” ও “ইস্টার্ন সেন্ট্রি” মডেল অনুসরণ করবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা, যাতে রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের আগে সাড়া দেওয়া যায়।

ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন কমান্ডোর ১,৫০০ জন সৈন্য মার্চ মাসে ন্যাটোর “কোল্ড রেসপন্স” অনুশীলনে অংশ নেবে। এই বৃহৎ মাত্রার প্রশিক্ষণ নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং চরম শীতল পরিবেশে মিত্র বাহিনীর সমন্বিত কাজের দক্ষতা বাড়াবে।

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য-নেতৃত্বাধীন “জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স” “লায়ন প্রোটেক্টর” নামের আরেকটি বড় অনুশীলন পরিচালনা করবে। এতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনী, বিমান, ভূমি ও সমুদ্র শক্তি একত্রিত হয়ে নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও ড্যানিশ স্ট্রেটসের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা ও স্যাবোটেজের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ নেবে।

ইউক্রেনের আক্রমণের পর রাশিয়ার আন্ডারসী কেবল ও পাইপলাইন হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটো মিত্র দেশগুলো এই অবকাঠামো রক্ষার জন্য যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণে ত্বরান্বিত হয়েছে। গত বছর যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে একটি রক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে দু’দেশের নৌবাহিনী একত্রে রাশিয়ার সাবমেরিন ট্র্যাক করবে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে রাশিয়ার সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাজ্যের জলের মধ্যে প্রায় ত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা নরওয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।

ন্যাটোর ব্রাসেলস সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হিলি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। বৈঠকে আর্কটিক নিরাপত্তা, সাবমেরিন পর্যবেক্ষণ ও কেবল সুরক্ষা সংক্রান্ত কৌশলগত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

হিলি বলেন, “রাশিয়া আর্টিকের নিরাপত্তার ওপর যে হুমকি তৈরি করছে তা শীতল যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড়। আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এই হুমকির মোকাবিলা করা জরুরি।” এই বক্তব্যে তিনি ন্যাটোর সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইয়েভেট কোপারও একই সভায় উল্লেখ করেন, “আর্কটিক সেন্ট্রি আমাদের আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াবে, যা রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের আগে সতর্কতা বাড়াবে।” তিনি ন্যাটোর পূর্ববর্তী সেন্ট্রি মডেলকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।

এইসব পদক্ষেপের ফলে নরওয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দ্বিগুণ সৈন্যসংখ্যা, বৃহৎ প্রশিক্ষণ ও যৌথ অপারেশন নরওয়ের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং রাশিয়ার আর্কটিক কৌশলকে সীমাবদ্ধ করতে সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আর্কটিকের প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিপিং রুটের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে রাশিয়ার আগ্রাসী নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যাটোর সমন্বিত পদক্ষেপ এবং যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে ন্যাটোর ব্রাসেলস বৈঠকের পর আর্কটিক সেন্ট্রি প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া “কোল্ড রেসপন্স” ও “লায়ন প্রোটেক্টর” অনুশীলনের ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments