পোল্যান্ডের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল পোলস্যাটের সাংবাদিক ডার্বি, ইংল্যান্ডে ২০১০ সালে ঘটিত গৃহহত্যা কেসে নতুন মোড় আনেন। তিনি আন্না পোডেডওর্নার বাড়িতে সাক্ষাৎকার নেন, যার ফলে তিনি ডার্বিশায়ার পুলিশকে মৃতদেহের অবস্থান জানিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত পোডেডওর্না গৃহহত্যা দোষী সাব্যস্ত হন।
২০১০ সালে ডার্বির বয়ার স্ট্রিটে বসবাসরত আন্না পোডেডওর্না তার সঙ্গী ইজাবেলা জাব্লোস্কাকে হত্যা করেন। তিনি শিকারের দেহকে দুই ভাগে কেটে বাগানের মাটিতে গুঁড়ে দিতেন। তবে দেহের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় মামলাটি ১৫ বছর ধরে অমীমাংসিত রইল।
ইজাবেলার কন্যা কাসিয়া, যিনি বহু বছর ধরে তার মায়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, পোলিশ সাংবাদিককে চিঠি লিখে সাহায্য চেয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি ঘটনার বিশদ এবং তার মায়ের অদৃশ্য হওয়ার পেছনের প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন। এই চিঠি পোলস্যাটের প্রতিবেদককে ডার্বিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করে।
সাংবাদিক ডার্বি ডার্বি, ইংল্যান্ডে পৌঁছে পোডেডওর্নার বাড়ির দরজায় গিয়ে তার সামাজিক বিষয়ক টেলিভিশন প্রোগ্রাম “ইন্টারভেঞ্চিয়া”র জন্য সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকারের সময় পোডেডওর্না ইজাবেলার গৃহহত্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানার দাবি করেন না, যদিও তার পূর্বে পরিবার তাকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল।
সাক্ষাৎকার চলাকালে সাংবাদিক লক্ষ্য করেন যে পোডেডওর্না অস্বস্তিকর এবং নার্ভাস অবস্থায় আছেন। তার মুখের অভিব্যক্তি এবং কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি সত্যটি লুকিয়ে রাখছেন। এই পর্যবেক্ষণ তাকে আরও তদন্তের দিকে ধাবিত করে।
সাক্ষাৎকারের পরপরই পোডেডওর্না ১৫ মে ২০২৫ তারিখে ডার্বিশায়ার পুলিশকে ইমেইল পাঠান, যেখানে তিনি মৃতদেহের সুনির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করেন। তার এই অপ্রত্যাশিত বার্তা পুলিশকে প্রথমে বিভ্রান্ত করে, কারণ ইমেইলটি হঠাৎ করে এসেছে এবং পূর্বে কোনো সূত্র ছিল না।
পুলিশ দ্রুতই পোডেডওর্নার ইমেইলটির উত্তর দিয়ে অতিরিক্ত তথ্য চায়। পরবর্তী কয়েক দিনে উভয় পক্ষের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদান হয়, যেখানে পোডেডওর্না ধীরে ধীরে মৃতদেহের অবস্থান ও দেহের অবস্থা সম্পর্কে বিশদ জানায়।
২৪ মে ২০২৫ তারিখে পোডেডওর্না শেষবারের মতো ডিটেকটিভদের কাছে ইমেইল পাঠান, যেখানে তিনি গার্ডেনের নির্দিষ্ট স্থানে দেহটি গুঁড়ে দেওয়া অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়ে দেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত现场ে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
দেহের বিশ্লেষণে প্রকাশ পায় যে ইজাবেলা জাব্লোস্কা দুই ভাগে কাটা হয়েছিল এবং গাছের শিকড়ের নিচে গুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। পোডেডওর্না নিজেই একজন দক্ষ মাংসের কসাই, যা তাকে দেহকে এভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম করে। এই বিশদগুলো কেসের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রমাণের ভিত্তিতে ডার্বিশায়ার আদালত পোডেডওর্নাকে গৃহহত্যা দোষী সাব্যস্ত করে এবং শাস্তি নির্ধারণ করে। দোষী সাব্যস্তের ঘোষণাটি মঙ্গলবারের আদালত সেশনে প্রকাশিত হয়, যা ১৫ বছর পুরোনো কেসের শেষ চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
প্রসিকিউশন দল সাংবাদিকের কাজকে “মোড় ঘোরানো মুহূর্ত” হিসেবে প্রশংসা করে এবং উল্লেখ করে যে তার দৃঢ় অনুসন্ধান ও সাক্ষাৎকারই শেষ পর্যন্ত মামলাটিকে উন্মোচন করেছে। এই কেসটি মিডিয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত কাজের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে কিছু বিবরণ পাঠকদের জন্য অশান্তিকর হতে পারে। গৃহহত্যা, দেহের বিচ্ছেদ এবং দীর্ঘ সময়ের অমীমাংসিত কেসের তথ্য সংবেদনশীল, তাই পাঠকগণ নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী পড়বেন।



