বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান মঙ্গলবার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশাল চ্যালেঞ্জের সতর্কতা জানিয়ে বলেন, যদি তিনি বৃহস্পতিবারের ভোটে জয়ী হন তবে দেশের নিরাপত্তা পুনর্স্থাপন ও রাজনৈতিক অশান্তি শেষ করা তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে। তিনি দেশের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য “স্বাভাবিক অবস্থা” বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
তরিকের মতে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ধ্বংসের দায়িত্বে, যা সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলেছে। তিনি অতীত শাসনকে দোষারোপ করে বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জ্বালানি খাত এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা সবই ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এসব ক্ষেত্রের পুনর্গঠন ছাড়া দেশের পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
বিএনপি বর্তমানে জরুরি নির্বাচনে অগ্রগামী অবস্থানে, তবে জামা-ই-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, যা দেশের বৃহত্তম ইসলামিক দল হিসেবে পরিচিত। উভয় দিকের প্রচারণা তীব্র, ফলে ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তরিকের অফিসের দেয়ালে তার মৃত পিতামাতা—আনিসুর রহমান জিকো ও খালেদা জিয়া—এর স্বর্ণফ্রেমের ছবি ঝুলে আছে। এই পরিবেশে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হলে তিনি জনগণের কাছ থেকে বিশাল ম্যান্ডেট পাবেন এবং কোনো জোটের প্রয়োজন হবে না।
তিনি আরও জানান, নিজের পার্টির জোটের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আসন অর্জন করে স্বাধীনভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে। তরিকের এই মন্তব্য তার স্বতন্ত্র নেতৃত্বের ইচ্ছা ও পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রতিফলন।
দশ বছর আগে, তরিক ১৭ বছর ব্রিটেনে নির্বাসন শেষে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আসেন। তার ফিরে আসা সময়ে, তার মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মাত্র কয়েক দিন পরে ৮০ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশা বাড়ে।
মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, তরিক নিজেকে “তারা ছিল তারা, আমি আমি” বলে পরিচয় দেন, যা তার পিতামাতা ও নিজের রাজনৈতিক জীবনের পার্থক্যকে তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, নিজের রাজনৈতিক কর্মজীবন দীর্ঘ এবং তিনি পূর্বের নেতৃত্বের চেয়ে ভাল করার প্রচেষ্টা করবেন।
যদি তরিক সরকার গঠন করেন, তবে তার প্রথম কাজ হবে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতের পুনর্গঠনও তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, জামা-ই-ইসলামি জোটের নেতা ও সমর্থকরা তরিকের দাবি ও পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তারা সরকারী নীতির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন।
নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে গঠন করবে। যদি তরিকের দল স্পষ্ট ম্যান্ডেট পায়, তবে তিনি এককভাবে সরকার গঠন করে তার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, যদি জোটের প্রভাব বাড়ে, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোট গঠন প্রয়োজন হতে পারে।
অবশেষে, দেশের ১৭ কোটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ভোটের ফলাফলের ওপর। তরিকের ঘোষিত লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



