পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) প্রথমবারের মতো নিলাম পদ্ধতিতে দল গঠন করবে। নিলামটি লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। পিএসএল কর্তৃপক্ষের মতে, এই নিলাম থেকে দলগুলো নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহের সুযোগ পাবে, যা লিগের গঠনকে নতুন দৃষ্টিকোণ দেবে।
নিলামের জন্য মোট ৯০৩ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৫৩। এই সংখ্যা পূর্বের ড্রাফট পদ্ধতির তুলনায় বেশি, যা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিভার মিশ্রণকে নির্দেশ করে। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে আসা খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত, যা নিলামের গতিবিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছিল যে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে। তবে নিলাম পদ্ধতিতে ক্যাটাগরির কাজের পদ্ধতি স্পষ্ট না থাকায় পরে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়। এই পরিবর্তন দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে খেলোয়াড়ের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে।
পিসিবি চারটি ভিত্তিমূল্যের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেছে: ৪ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি, ২ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি, ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। প্রতিটি ক্যাটাগরি নিলামের সময় খেলোয়াড়ের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হবে, যা দলের বাজেট পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। এই কাঠামো নিলামের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
বিডের সর্বনিম্ন বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়েছে ভিত্তিমূল্যের ওপর ভিত্তি করে। ১ কোটি ১০ লাখ রুপির নিচে বিডের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি, ২ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে হবে ৫ লাখ রুপি, ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে হবে ১০ লাখ রুপি এবং ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির উপরে হবে ১৫ লাখ রুপি। এই ধাপভিত্তিক বৃদ্ধি নিলামের গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং খেলোয়াড়ের মূল্য নির্ধারণে স্পষ্টতা দেবে।
যেসব খেলোয়াড় নিলামে কোনো দলে না যায়, তাদের জন্য দুটি নতুন দল গঠন করা হবে। এই দুই নতুন দলে প্রত্যেকটি চারজন করে খেলোয়াড় নিতে পারবে, যা অব্যবহৃত খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করবে। ফলে নিলামের পরেও খেলোয়াড়দের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত হবে।
প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বাজেট ৪৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি নির্ধারিত, তবে দলগুলো চাইলে সরাসরি একজন বিদেশি খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করতে পারবে, যিনি গত মৌসুমে পিএসএলে অংশগ্রহণ করেননি। এই ক্ষেত্রে বাজেট ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। অতিরিক্ত বাজেটের সুযোগ দলগুলোর কৌশলগত বিকল্পকে বিস্তৃত করবে, বিশেষ করে বিদেশি খেলোয়াড়ের নির্বাচন ক্ষেত্রে।
বিদেশি খেলোয়াড়ের চুক্তিতে পিসিবি আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। এই সহায়তা বিদেশি খেলোয়াড়ের বেতন ও চুক্তি শর্তে আর্থিক চাপ কমাবে, ফলে দলগুলো উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণ করতে পারবে। পিসিবি এই পদক্ষেপকে লিগের গুণগত মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
দলগুলোকে ন্যূনতম ১৬ এবং সর্বোচ্চ ২০ জন খেলোয়াড়ের স্কোয়াড গঠন করতে হবে। স্কোয়াডে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচজন এবং সর্বোচ্চ সাতজন হতে পারবে। এই নিয়ম বিদেশি ও দেশীয় খেলোয়াড়ের সমন্বয়কে সুষম রাখবে এবং লিগের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখবে।
প্রতিটি ম্যাচের একাদশে অন্তত তিনজন এবং সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে রাখতে হবে। এই শর্ত ম্যাচের সময় বিদেশি খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করবে, যা স্থানীয় প্রতিভার বিকাশে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, দলগুলোকে স্কোয়াডে অন্তত দুইজন আনক্যাপড অনূর্ধ্ব-২৩ বছর বয়সী খেলোয়াড় রাখতে হবে, যা তরুণ খেলোয়াড়ের সুযোগ বাড়াবে।
নিলামের সূচনা লাহোরে হওয়ায় আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। পিএসএল কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে নতুন নিলাম পদ্ধতি লিগের গঠনকে আরও পেশাদার এবং স্বচ্ছ করবে। নিলামের ফলাফল দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা ও মৌসুমের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ একটি পর্যায় তৈরি করবে।
নিলাম শেষ হওয়ার পর দলগুলোকে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে হবে এবং মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া পিএসএলকে আন্তর্জাতিক মানের টিম গঠন এবং উচ্চমানের ক্রিকেট প্রদর্শনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



