নির্বাচনী প্রচার শেষের পর, গতকাল সকালেই শেষ ক্যাম্পেইন দিন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো রাস্তায় র্যালি চালানোর পাশাপাশি মেটা (ফেসবুক) বিজ্ঞাপনে বিশাল অর্থ ব্যয় করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। এই ডিজিটাল লড়াইতে বহু বিজ্ঞাপনদাতা নিজেদেরকে সংবাদ সংস্থা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষণে শুধুমাত্র সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা গত ৩০ দিনে মেটা বিজ্ঞাপনে কমপক্ষে ১০০ ডলার (প্রায় ৮,৫০০ টাকা) ব্যয় করেছে, কারণ মেটা এই সীমার নিচের ব্যয় প্রকাশ করে না। ফলে প্রকৃত ব্যয় ও বিজ্ঞাপনের সংখ্যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।
বিজ্ঞাপনদাতারা দুটি মূল পদ্ধতি অনুসরণ করেছে: একদিকে কম সংখ্যক কিন্তু ব্যয়বহুল বিজ্ঞাপন চালিয়ে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা, অন্যদিকে সস্তা বিজ্ঞাপনগুলো বারবার প্রকাশ করে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি বজায় রাখা।
বিএনপি ১৩৬টি স্বতন্ত্র পেজের মাধ্যমে মোট ৫,১৭৯টি বিজ্ঞাপন চালিয়ে প্রায় ৯৬,১৭১ ডলার (প্রায় ১.১৫ কোটি টাকা) ব্যয় করেছে। এই সংখ্যা দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের ডিজিটাল প্রচারের মাত্রা প্রকাশ করে।
জামায়াত-এ-ইসলামি ও ১১টি পার্টির জোট ১০৪টি পেজ ব্যবহার করে ২,৭৯২টি বিজ্ঞাপন চালিয়েছে এবং মোট প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। এই জোটের মধ্যে কেলাফত মজলিশ ও বাংলাদেশ কেলাফত মজলিশ মিলিয়ে ৪ লক্ষ টাকা, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ৩.৮ লক্ষ টাকা এবং আমর বাংলাদেশ (এবি) পার্টি প্রায় ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে।
স্বাধীন প্রার্থীরা ৩৩টি পেজে ৮৪৩টি বিজ্ঞাপন চালিয়ে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া ইস্লামি আন্দোলন বাংলাদেশে ১৩টি পেজের মাধ্যমে ৪৩২টি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে।
বৃহত্তম ২০টি বিজ্ঞাপনদাতার মধ্যে ১২টি বিজ্ঞাপনদাতা বিএনপি এবং ছয়টি জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের অন্তর্ভুক্ত। যদিও বৃহৎ ব্যয়কারী দলগুলোতে বিএনপি বেশি, তবে সর্বোচ্চ ব্যয়কারী একক পেজ ছিল ঢাকা নিউজ ২৪ অনলাইন, যা নিজেকে সংবাদ সংস্থা হিসেবে উপস্থাপন করলেও মূলত জামায়াত-এ-ইসলামির মুখপাত্র। এই পেজ প্রায় ১.১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ৪৬টি বিজ্ঞাপন চালিয়েছে, যেখানে দরিপল্লার জন্য ভোট চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়কারীও একটি পেজ, যা একইভাবে সংবাদ সংস্থা রূপে কাজ করে, তবে এর সুনির্দিষ্ট ব্যয় ও বিজ্ঞাপন সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যয়ের এই বিশাল পরিমাণ দেখায় যে, ঐতিহ্যবাহী র্যালি ও সমাবেশের পাশাপাশি মেটা প্ল্যাটফর্ম এখন রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ভোটারদের মনোভাব গঠনে এই ধরনের অনলাইন ক্যাম্পেইনের প্রভাব ভবিষ্যতে নির্বাচনী কৌশলকে আরও ডিজিটাল দিকের দিকে ধাবিত করতে পারে।



