ব্রিটনি স্পিয়ার্স, ৪৪ বছর বয়সী পপ আইকন, তার সব গানের অধিকার প্রাইমারি ওয়েভ নামের স্বাধীন সঙ্গীত প্রকাশককে বিক্রি করেছেন। বিক্রয়টি ৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয় এবং আনুমানিক দুইশো মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪৬ মিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের বলে জানা যায়।
স্পিয়ার্সের ক্যাটালগে “…বেবি ওয়ান মোর টাইম”, “Oops!… I Did It Again”, “Toxic” এবং “Gimme More” সহ তার বহু হিট গান অন্তর্ভুক্ত। এই গানগুলো তাকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রাইমারি ওয়েভের পক্ষ থেকে বিক্রয় সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং স্পিয়ার্সের প্রতিনিধিরাও মন্তব্যে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জানুয়ারি ২০২৪-এ স্পিয়ার্স প্রকাশ করেন যে তিনি আর সঙ্গীত শিল্পে ফিরে আসবেন না। তার শেষ প্রকাশিত গানটি ২০২২ সালে এলটন জনের সঙ্গে একটি ডুয়েট ছিল।
প্রাইমারি ওয়েভ ইতিমধ্যে নোটোরিয়াস বি.আই.জি., প্রিন্স এবং হুইটনি হিউস্টনের সম্পত্তির অধিকারও অর্জন করেছে। এই অধিগ্রহণগুলো প্রকাশকের সঙ্গীত লাইব্রেরি বিস্তারে সহায়ক।
বিক্রয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং চূড়ান্ত মূল্য জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য বড় শিল্পীও তাদের ক্যাটালগ বিক্রি করেছেন। ব্রুস স্প্রিংস্টিন, জাস্টিন বিবার, জাস্টিন টিম্বারলেক এবং শাকিরা সহ বহু নাম এই প্রবণতায় অংশ নিয়েছেন।
ব্রুস স্প্রিংস্টিন ২০২১ সালে তার পুরনো ক্যাটালগ সনি (সনি) কোম্পানিকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। জাস্টিন বিবার ২০২৩ সালে হিপনোসিস সঙস ক্যাপিটালকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেন।
প্রাইমারি ওয়েভের প্রতিষ্ঠা প্রায় বিশ বছর আগে লরেন্স মেস্টেল নামের সঙ্গীত নির্বাহী করেন। তিনি প্রথমে নীরভানা ব্যান্ডের কুর্ট কোবেইনের ক্যাটালগের অর্ধেক অংশ ক্রয় করে এই ব্যবসা শুরু করেন।
স্পিয়ার্সের বিক্রয় তার বিশাল সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে; তিনি বিশ্বজুড়ে ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন এবং ১৯৯৯ থেকে নয়টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন।
এই চুক্তি তার জীবনের অস্থির সময়ের পর আসে। ২০২১ সালে তিনি ১৩ বছর দীর্ঘ কনসারভেটরশিপ শেষ করেন, যা তার আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে তার পিতার নিয়ন্ত্রণে রাখত।
২০২৩ সালে তিনি “দ্য উম্যান ইন মি” শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন, যেখানে কনসারভেটরশিপের অধীনে তার সংগ্রামগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তার প্রাক্তন স্বামী কেভিন ফেডারলাইন ২০২৫ সালের শেষের দিকে “ইউ থট ইউ নিউ” শিরোনামে নিজের আত্মজীবনী প্রকাশ করেন, যা তাদের যৌথ অতীতের দিকে ইঙ্গিত করে।
ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ক্যাটালগ বিক্রয় সঙ্গীত শিল্পে সম্পত্তি অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে, এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সৃজনশীল দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।



