১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর মাসুদ রানা ওরফে মজিদের মেয়ে মাজেদা বেগম, পুত্রের চোখের আঘাতের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন।
সংঘর্ষটি সোমবার রাত ১১টার দিকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে শুরু হয়। ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগের পর বিএনপি কর্মীরা দুইজনকে আটক করে, এরপর রাত ১২টার দিকে জামায়াত-এ-ইসলামির সমর্থকরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে মাসুদ রানা ও তার ভাইয়ের বাড়িতে আক্রমণ চালায়।
আক্রমণের ফলে বাড়িতে ভাঙচুর হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। মাসুদ রানা গম্ভীরভাবে চোখে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তার ভাইও গুরুতরভাবে আহত হন। উভয়কে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রানা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
আঘাতের খবর শোনার পর মাসুদ রানা’র মা মাজেদা বেগম মানসিক শক থেকে ভেঙে পড়েন এবং মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন। একই দিনে তার দাহ শেষ করা হয়, যা এলাকার মানুষকে শোকের ছায়ায় ফেলেছে।
বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত-এ-ইসলামির ওপর হামলার অভিযোগ তুলে স্থানীয় ওসি ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে দেন।
মোশারফ হোসেন জানান, প্রশাসনকে ঘটনাটি জানানো সত্ত্বেও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, রাতের হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং পুত্রের চোখের আঘাতের ফলে মা মানসিকভাবে ভেঙে গিয়ে মারা গেছেন এবং এমন ঘটনা বগুড়ার মতো জায়গায় ঘটলে অন্যত্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাবিত হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এরপর জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ একই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, হামলা মূলত বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের কর্মীদের ওপর চালিয়েছেন।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। উভয় দলই তাদের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা দাবি করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে এলাকায় অতিরিক্ত গশ্বর বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভোটের টাকা বিতরণ ও ভোট কেনার অভিযোগের মতো বিষয়গুলো গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের সূত্রপাত করে। পুত্রের চোখের আঘাতের পর মা মাজেদা বেগমের মৃত্যু এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে মানবিক দিক থেকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জেলা প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে যে মাসুদ রানা ও তার ভাই ভর্তি হয়েছে। ঘটনার দায়িত্ব নির্ধারণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশকে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



