25 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্য৯৪ মিলিয়ন মানুষ কেটারাক্টের শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন, অর্ধেকেরই সেবা নেই

৯৪ মিলিয়ন মানুষ কেটারাক্টের শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন, অর্ধেকেরই সেবা নেই

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯৪ মিলিয়ন মানুষ কেটারাক্টে আক্রান্ত, যার মধ্যে অর্ধেকেরই প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কেটার্যাক্টের ঝুঁকি বাড়ে, যা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায়।

কেটার্যাক্ট হল চোখের লেন্সের মেঘলা হয়ে যাওয়া, যা দৃষ্টির স্পষ্টতা কমিয়ে দেয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না করলে সম্পূর্ণ অন্ধত্বে পরিণত হতে পারে। বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি ধূমপান, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত সূর্যালোকে সংস্পর্শে থাকা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কেটার্যাক্ট শল্যচিকিৎসা সাধারণত ১৫ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং এটি সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী চিকিৎসা পদ্ধতির একটি হিসেবে বিবেচিত। একবারের অপারেশনে দৃষ্টিশক্তি তাত্ক্ষণিকভাবে ফিরে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী ফলাফল প্রদান করে।

উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই শল্যচিকিৎসা সবচেয়ে বেশি করা হয়, যেখানে সেবা সহজলভ্য এবং রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে বিশ্বব্যাপী অর্ধেকের বেশি রোগী শল্যচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত, যা একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসেবা ফাঁক নির্দেশ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চোখের যত্নের প্রযুক্তিগত প্রধানের মতে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি কেটার্যাক্ট রোগী শল্যচিকিৎসা পায় না। বিশেষ করে আফ্রিকান অঞ্চলে এই অনুপাতে তীব্রতা দেখা যায়, যেখানে প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা পেতে না পারা রোগীর সংখ্যা চারের মধ্যে তিনজন পর্যন্ত পৌঁছায়।

কেনিয়ায় বর্তমান প্রবণতা অনুসারে, কেটার্যাক্ট শল্যচিকিৎসা প্রয়োজনীয় রোগীর ৭৭ শতাংশের সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা শল্যচিকিৎসা না পেয়ে অন্ধত্ব বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে বেঁচে থাকবে। এই পরিসংখ্যান অঞ্চলীয় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব অঞ্চলে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম শল্যচিকিৎসা সেবা পায়। এই বৈষম্য রোগের অগ্রগতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।

৯৪ মিলিয়ন কেটার্যাক্ট রোগীর মধ্যে ২০ শতাংশের কমই সম্পূর্ণ অন্ধ, বাকি রোগীরা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের শিকার। তাই শল্যচিকিৎসা না করা হলে বহু মানুষ দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

গত দুই দশকে গ্লোবাল কেটার্যাক্ট শল্যচিকিৎসা কভারেজে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কিছুটা অগ্রগতি নির্দেশ করে। তবে ২০২১ সালে সদস্য দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, বর্তমান মডেলিং দেখায় এই দশকে কভারেজ মাত্র ৮.৪ শতাংশই বাড়বে।

এই ফাঁক পূরণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলোকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে চোখের পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা সরঞ্জামে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, চোখের যত্নে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি করা, সার্জনদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষিত কর্মীকে বড় শহরের বাইরে বিতরণ করা জরুরি বলে সংস্থা জোর দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা দেশগুলোকে গুণগত মানের কেটার্যাক্ট শল্যচিকিৎসা সেবা প্রদান করতে সহায়তা করবে। এই নির্দেশিকায় সেবা মান, রোগীর নিরাপত্তা এবং পোস্ট-অপারেটিভ ফলো-আপের মানদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে।

শেষে, সংস্থা উল্লেখ করেছে যে কেটার্যাক্ট শল্যচিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের জন্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনার এলাকার চোখের স্বাস্থ্য সেবা কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে ভাবা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments