ফ্লোরিডার প্রাক্তন পাম বিচ পুলিশ প্রধান মাইকেল রিটার ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ফোন কল পেয়েছিলেন, যেখানে ট্রাম্প এপস্টেইনের আচরণ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। এই দাবিটি মার্কিন সরকার প্রকাশিত এফবিআই নথিতে উল্লেখিত এবং ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত বিশাল নথি সমষ্টির অংশ।
মাইকেল রিটার ২০০৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাম বিচের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এপস্টেইনের তদন্ত চলাকালীন তার দায়িত্বের মধ্যে ছিলেন। এফবিআই ২০১৯ সালে রিটারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ করে, যা পরে প্রকাশিত নথির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
মার্কিন সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এপস্টেইন মামলায় সংশ্লিষ্ট বহু নথি প্রকাশ করে, যার মধ্যে এফবিআই রেকর্ডও রয়েছে। এই নথিগুলোতে রিটারের বিবৃতি ও ট্রাম্পের কথোপকথনের সংক্ষিপ্তসার অন্তর্ভুক্ত, যা মিডিয়ার নজরে আসে।
রিটারের মতে, ট্রাম্প ফোনে বলেছিলেন যে এপস্টেইনের অশ্লীল আচরণ সম্পর্কে সবাই অবগত। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের কথায় এপস্টেইনের অপরাধের ব্যাপক জ্ঞান প্রকাশ পেয়েছে এবং তা জনসাধারণের নজরে এসেছে।
ট্রাম্পের কথায় তিনি এপস্টেইনকে তার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। রিটার জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
এছাড়া, ট্রাম্প রিটারকে জানিয়েছিলেন যে নিউইয়র্কের মানুষ এপস্টেইনের অপরাধকে ঘৃণা করে এবং তা সম্পর্কে সচেতন। রিটার এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের এপস্টেইন সংক্রান্ত সচেতনতা প্রকাশের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও রিটারকে গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে এপস্টেইনের ‘অপারেটিভ’ বলে চিহ্নিত করেন এবং তাকে নজরে রাখার নির্দেশ দেন। রিটার এই তথ্যকে ট্রাম্পের এপস্টেইন নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সহায়ক ব্যক্তির প্রতি সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
ট্রাম্পের শেষ মন্তব্যে তিনি বলেন, টিনেজারদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তিনি এপস্টেইনের কাছাকাছি ছিলেন। রিটার এই কথাকে ট্রাম্পের নিজস্ব যৌন অপরাধের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন।
রিটার যখন পাম বিচের পুলিশ প্রধান ছিলেন, তখন এপস্টেইনের তদন্তের প্রথম ধাপগুলো শুরু হয়। তার পদমর্যাদা ও তদন্তের সময়সীমা তাকে এপস্টেইন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছিল।
বিবিসি এই নথি ও রিটারের বিবৃতি সম্পর্কে রিপোর্ট করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে রিটার এফবিআই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ফোন কলের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে রিটারকে ট্রাম্পের সরাসরি কথোপকথনের সাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রকাশের ফলে মার্কিন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এপস্টেইন মামলায় নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। রিটার ও ট্রাম্পের কথোপকথন ভবিষ্যতে তদন্তের নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত আইনি চাপ বাড়াতে পারে।
প্রকাশিত নথি ও রিটারের দাবির ভিত্তিতে, আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এপস্টেইন সংক্রান্ত তথ্যের পুনঃপর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় তদন্তের সম্ভাবনা বাড়ছে।



