যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুইজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরকে এপস্টেইন ফাইল সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে যুক্তরাষ্ট্রে হাজির হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের এবং ভর্জিনিয়া গিয়াফ্রের পরিবার থেকে, যিনি এপস্টেইনের শিকারদের একজন হিসেবে অ্যান্ড্রু বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি রো খান্না উল্লেখ করেছেন যে রয়্যাল পরিবার এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখায়নি, আর সহকর্মী তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ যুক্তি দিয়েছেন যে রাজা চার্লস তার ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করা উচিত।
রাজা চার্লস তৃতীয়ের পূর্ববর্তী মন্তব্যে রয়্যাল পরিবারকে পুলিশ তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছিল। তিনি পরিবারকে বলেছিলেন যে তারা তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করবে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর তার বিরুদ্ধে কোনো ভুল স্বীকার করেননি এবং ২০২২ সালে ভর্জিনিয়া গিয়াফ্রের সঙ্গে কোনো দায় স্বীকার না করে আউট‑অফ‑কোর্ট সমঝোতা করেছে। সেই সমঝোতায় কোনো আর্থিক দায়িত্ব স্বীকার করা হয়নি।
বাকিংহাম প্যালেসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন যে যদি পুলিশ তাদের কাছ থেকে কোনো অনুরোধ পায়, পরিবার তা মেনে চলবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এছাড়া, রাজা চার্লস এপস্টেইন স্ক্যান্ডালের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ড্রু সম্পর্কে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সকল ধরণের নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
থেমস ভ্যালি পুলিশ মঙ্গলবার একটি অভিযোগের মূল্যায়ন শুরু করেছে, যা অ্যান্টি‑মনার্কি গোষ্ঠী রিপাবলিকের দায়ের। অভিযোগের মূল বিষয় হল অ্যান্ড্রু গোপনীয় নথি এপস্টেইনের সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে ধারণা।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু ২০১০ ও ২০১১ সালে বাণিজ্যিক রায়জন হিসেবে কাজ করার সময় এপস্টেইনের সঙ্গে গোপনীয় তথ্য বিনিময় করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলো সম্প্রতি বিসিবির মাধ্যমে প্রকাশিত ফাইলের মধ্যে দেখা গেছে।
অ্যান্ড্রুকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রো খান্না উল্লেখ করেছেন যে অ্যান্ড্রু যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উপযুক্ত হবে। তিনি গত বছর জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশে বাধ্য করা আইনটির সহ-স্পনসরও ছিলেন। আইনপ্রণেতা রয়্যাল পরিবারকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং শিকারদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই উন্নয়ন রয়্যাল পরিবারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। যদি অ্যান্ড্রুকে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকা হয়, তবে তা রয়্যাল পরিবারের আন্তর্জাতিক চিত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা অ্যান্ড্রুর ওপর সম্ভাব্য সমন বা ডাকা আদেশ জারি করতে পারে। থেমস ভ্যালি পুলিশও গোপনীয় নথি শেয়ার করার অভিযোগের ওপর তদন্ত চালিয়ে যাবে। এই সব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রয়্যাল পরিবারের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।



