25 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিস্টারমার পদত্যাগের চাপের মুখে সরকারী সমর্থন জোরালো

স্টারমার পদত্যাগের চাপের মুখে সরকারী সমর্থন জোরালো

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, শ্রম দলের অভ্যন্তর ও বহির্ভূত পদত্যাগের দাবির মুখে, সরকার চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তার ম্যান্ডেট এখনও বৈধ এবং তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেবেন। ডাউনিং স্ট্রিটের অফিসিয়াল বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক চাপ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করবে না।

স্টারমারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ চাপের উত্স হল পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্কের নতুন প্রকাশ। এই তথ্যের প্রকাশের পর শ্রম দলের মধ্যে ও বাহিরে উভয়ই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তবে স্টারমার এই বিষয়কে তার নেতৃত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে দেননি।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরা একত্রে সমর্থন জানিয়েছেন। চ্যান্সেলর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, সরকার বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ এবং স্টারমারের নেতৃত্বে তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা এই পদত্যাগের দাবিকে কনজারভেটিভ দলের রাজনৈতিক চাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কনজারভেটিভ পার্টি, যা বিরোধী দল, এই সময়ে স্টারমারের সরকারকে দুর্বল করার জন্য পদত্যাগের দাবি ত্বরান্বিত করেছে। তাদের মতে, স্টারমারের নেতৃত্বে চলমান বিতর্ক ও তদন্তগুলো সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তবে শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ সমর্থন এই দাবিগুলোকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মন্ত্রিসভার সমন্বয়ক দল উল্লেখ করেছে, স্টারমার এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের চাপে পিছু হটবেন না এবং তার সরকারকে স্থিতিশীল রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

শ্রম দলের কিছু সদস্যের মধ্যে এখনও স্টারমারের নেতৃত্বে সন্দেহের স্রোত রয়েছে, তবে তারা সরকারি নীতি ও কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টাইনের সংযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও, স্টারমার এই বিষয়কে তার সরকারী দায়িত্ব থেকে আলাদা করে দেখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির প্রতিক্রিয়ায়, শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের একটি দল প্রকাশ্যে স্টারমারের প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, সরকার এখনো শক্তিশালী এবং কোনো একক দাবি তাকে তার দায়িত্ব থেকে সরাতে পারবে না।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে, শ্রম দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। শাবানা, যিনি পাকিস্তানীয় বংশোদ্ভূত এবং বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেছেন, ৪৫ বছর বয়সী এবং শ্রম দলের সদস্য। তিনি অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য পরিচিত।

শাবানা মাহমুদের সম্ভাব্য উত্থানকে যদি বাস্তবায়িত করা হয়, তবে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার পটভূমি ও নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করছেন, তবে বর্তমান সময়ে তার নাম প্রধানমন্ত্রীর উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

শ্রম দলের অভ্যন্তরে শাবানা মাহমুদের সম্ভাব্য উত্থানকে কিছু সদস্য সমর্থন করছেন, আবার কিছু সদস্য তার কঠোর অভিবাসন নীতিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে স্টারমার এই সময়ে তার সরকারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং কোনো অস্থিরতা না বাড়াতে চেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি স্টারমার পদত্যাগ না করেন এবং শাবানা মাহমুদের সম্ভাব্য উত্থান ঘটে, তবে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখা হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, স্টারমার পদত্যাগের চাপের মুখে সরকারী সমর্থন দৃঢ় রয়েছে এবং তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়ে সরকার চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। শ্রম দলের অভ্যন্তরে ও বাহিরে চলমান বিতর্কের পরেও, মন্ত্রিসভার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা তার নেতৃত্বকে সমর্থন করে এবং কনজারভেটিভদের দাবিকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতে শাবানা মাহমুদের সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments