ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাক সেল চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সরকারী সংস্থা স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে মৌলিক পণ্য সরবরাহের জন্য ট্রাকের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রয় শুরু করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাক সেল কার্যক্রম রমজানের প্রথম দিন বা তার আগের দিন থেকে শুরু হতে পারে। এভাবে টিসিবি রমজান মাসের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছে।
টিসিবি এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ডধারী গৃহস্থালিকে সরাসরি ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করবে। ভর্তুকি মূল্যের সুবিধা মূলত দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবারকে লক্ষ্য করে, যাতে রমজানের উপবাসের সময় প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি না থাকে।
প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রমজান মাসে ট্রাক সেল মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রি করা হবে। এই সংখ্যা দেশের মোট স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি, যা টিসিবির বিক্রয় পরিসরকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে।
টিসিবি ট্রাক সেলে তেল, ডাল, চিনি, শোয়া এবং খেজুরসহ পাঁচটি প্রধান পণ্য বিক্রি করবে। তেল ও ডাল দেশের মৌলিক খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে অন্যতম, আর চিনি ও শোয়া দৈনন্দিন রান্নার অপরিহার্য উপাদান। খেজুর রমজানের বিশেষ খাবার হিসেবে উচ্চ চাহিদা পায়।
বিক্রয়কৃত পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে। তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব পণ্যই ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা হবে, যা বাজার মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।
টিসিবি জন্য এই ট্রাক সেল একটি গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস হিসেবে কাজ করবে। সরাসরি বিক্রয়ের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর খরচ কমে, ফলে সংস্থার মুনাফা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, সরকারী ভর্তুকি তহবিলের ব্যবহার স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বাজারে টিসিবির এই উদ্যোগের প্রভাবও ইতিবাচক হতে পারে। ভর্তুকি মূল্যের পণ্য সরাসরি গ্রাহকের হাতে পৌঁছালে, রিটেইল দামের ওপর দমনমূলক প্রভাব পড়বে। ফলে সাধারণ বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং দরিদ্র গৃহস্থালীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে।
লজিস্টিক দিক থেকে ট্রাক সেল চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে। রমজান মাসে ট্রাফিক জ্যাম ও রাস্তায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ পণ্য সরবরাহে বিলম্ব ঘটাতে পারে। টিসিবি এই ঝুঁকি কমাতে পূর্ব পরিকল্পনা ও রুট অপ্টিমাইজেশন ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, তেল ও ডালের মতো মৌলিক পণ্যের চাহিদা রমজানে স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। যদি সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেয়, তবে ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের ঘাটতি গ্রাহকের অসন্তোষের কারণ হতে পারে। তাই স্টক ম্যানেজমেন্ট ও রিজার্ভ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রমজান মাসে টিসিবির এই ধরনের সরাসরি বিক্রয় মডেল ভবিষ্যতে অন্যান্য মৌসুমে পুনরাবৃত্তি হতে পারে। যদি এই উদ্যোগে গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও বিক্রয় লক্ষ্য পূরণ হয়, তবে সরকারী ভর্তুকি নীতির অংশ হিসেবে ট্রাক সেলকে নিয়মিত কার্যক্রমে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, টিসিবি রমজান মাসে ট্রাক সেল চালু করে ভর্তুকি মূল্যে পাঁচটি মৌলিক পণ্য সরবরাহ করবে, যা ৩০‑৩৫ লাখ পরিবারকে উপকৃত করবে। এই পদক্ষেপটি সংস্থার আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে, তবে লজিস্টিক ও স্টক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।



