ম্যানচেস্টার সিটি’র স্ট্রাইকারের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলের পরে কোচ পেপ গার্ডিওলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিজেকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রাখতে বলা উচিত নয়। গার্ডিওলা এই মন্তব্য করেন যখন দলটি লিভারপুলের বিপক্ষে ২-১ স্কোরে জয়লাভ করে, এবং সেই জয়টি মূলত এরলিং হালান্ডের পেনাল্টি শুটের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। গার্ডিওলা উল্লেখ করেন যে, হালান্ডের বর্তমান পারফরম্যান্সে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবে ওঠা-নামা থাকবে।
লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে, শেষের ৯১ম মিনিটে হালান্ডের পেনাল্টি শুট ম্যানচেস্টার সিটি’র জয়কে সুনিশ্চিত করে। এই গোলটি তার দশটি উপস্থিতির মধ্যে তৃতীয় গোল, যার মধ্যে মাত্র একটিই খোলা খেলায় হয়েছে। হালান্ডের এই পারফরম্যান্সের পর তিনি স্বীকার করেন যে, নিজের গোলের সংখ্যা বাড়াতে তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ক্লান্তি কোনো অজুহাত নয়। তিনি নিজের ফর্ম উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ এবং শারীরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেন।
গার্ডিওলা হালান্ডের সামগ্রিক অবদানের প্রশংসা করেন, উল্লেখ করে যে এই মৌসুমে তিনি সব প্রতিযোগিতায় ৩৬টি ম্যাচে ২৮টি গোল করেছেন। তিনি বলেন, হালান্ড এখনো ২৯ বা ৩০ বছর বয়সী নয়, তাই তার শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন এখনও চলমান। গার্ডিওলা যোগ করেন, প্রতিটি মৌসুমে হালান্ডের অভিজ্ঞতা বাড়ছে এবং তার শরীরের প্রতিক্রিয়া আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছে। এভাবে তিনি দলের জন্য আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে।
কোচ গার্ডিওলা হালান্ডের গোলের ওপর নির্ভরশীলতা তুলে ধরে বলেন, “সিজনের তিন-চতুর্থাংশে যদি হালান্ড গোল না করেন, তবে কে গোল করবে তা অনুমান করা কঠিন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ টিতে এবং প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য হালান্ডের অবদান অপরিহার্য। গার্ডিওলা আরও উল্লেখ করেন যে, হালান্ডের অনুপস্থিতিতে দলটি একই স্তরের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারবে না। তাই তার গোলের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও, তার উপস্থিতি দলকে সঠিক পথে রাখে।
অ্যানফিল্ডে পেনাল্টি শুটের সময় হালান্ডের শীতল স্বভাব গার্ডিওলাকে মুগ্ধ করে। তিনি বলেন, “৯১, ৯২ মিনিটে এমন চাপের মধ্যে শুট করা সহজ নয়, তবু হালান্ডের দেহভঙ্গি ও চোখের দৃঢ়তা দেখায় যে তিনি সত্যিকারের বড় খেলোয়াড়।” গার্ডিওলা যোগ করেন, হালান্ডের এই মানসিক দৃঢ়তা তার ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের ভিত্তি গড়ে দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, হালান্ড এই মানসিক শক্তি বজায় রেখে আরও বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করবেন।
গার্ডিওলা হালান্ডের ক্লান্তি নিয়ে একমাত্র কারণ হিসেবে ক্যালেন্ডারকে উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “সপ্তাহের ঘন ঘন ম্যাচ এবং দীর্ঘ ভ্রমণই তার ক্লান্তির প্রধান কারণ।” কোচ বলেন, অতিরিক্ত বিশ্রাম ও সঠিক পুনরুদ্ধার ছাড়া খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা উন্নত করা কঠিন। তাই তিনি দলের শিডিউলকে সামান্য হালকা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিডিউল পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো কারণ হালান্ডের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে না।
ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভও ম্যানচেস্টার সিটি’র শেষ দশটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে খেলেছেন এবং প্রশংসা অর্জন করেছেন। অ্যানফিল্ডে ৬১ মিনিটে তিনি সন্দেহজনক কনকাশনের কারণে মাঠ ত্যাগ করেন, তবে পরবর্তী পরীক্ষায় কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। গার্ডিওলা নিশ্চিত করেছেন যে, খুসানভের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ঠিক আছে এবং তিনি পরবর্তী ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন। দলটি এখন ফুলহ্যামের সঙ্গে ইথিয়াদ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে, যেখানে খুসানভের উপস্থিতি রক্ষা পাবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ টিতে ম্যানচেস্টার সিটি এবং প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গার্ডিওলা এবং তার কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা স্পষ্ট। তারা হালান্ডের গোলের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে, সামগ্রিক দলগত কৌশলকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে, শিডিউল সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধান করে খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধারের সময় বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। গার্ডিওলা শেষ করে বলেন, “যদি হালান্ড শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তবে তিনি যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারেন।”



