আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এর কার্যনির্বাহী পরিচালক টড লায়ন্স মঙ্গলবার হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটিতে শোনানো এক সাক্ষ্যে বললেন, তার সংস্থা ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, এবং তিনি টুর্নামেন্টের সময় গেমের আশেপাশে কোনো কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একত্রে কাজ করবে, যেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই শহরগুলোতে গড়ে দশ মিলিয়ন দর্শক আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড়ো চাপ সৃষ্টি করবে।
আইসিই-র সাম্প্রতিক বছরগুলোর কার্যক্রম বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতি কঠোর করার সময়ে, মিনিয়াপোলিস‑সেন্ট পল মেট্রোপলিটন এলাকায় চালু করা বিস্তৃত অপারেশনে দুইজন নাগরিকের মৃত্যু ঘটার পর থেকে জনমত ও মানবাধিকার সংস্থার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওই দুইজনের নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুড, যাদের মৃত্যু আইসিই-র কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
লায়ন্সের এই শোনানো সাক্ষ্যটি ওই দুই মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়। তিনি হাউসের নিরাপত্তা কমিটিতে উপস্থিত হয়ে আইসিই-র ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, সংস্থার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন শাখা বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মূল স্তম্ভ। লায়ন্স উল্লেখ করেন, আইসিই সব অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি নেলি পু, যিনি নিউ জার্সির নবম জেলায় প্রতিনিধিত্ব করেন এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী এলাকা, যেখানে ফাইনাল ও সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে প্রশ্ন তোলেন। পু উল্লেখ করেন, যদি ভক্তরা ভুলভাবে গ্রেফতার বা অবৈধভাবে আটক হওয়ার আশঙ্কা করে, তবে তা পুরো টুর্নামেন্টের সুনাম ও অংশগ্রহণে ক্ষতি করবে। তিনি লায়ন্সকে জিজ্ঞাসা করেন, আইসিই কি ফিফা-সংক্রান্ত ইভেন্টের আশেপাশে কার্যক্রম স্থগিত করার কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা।
লায়ন্সের উত্তর ছিল, আইসিই-র নিরাপত্তা দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, কারণ সংস্থার কাজই হল সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করা ও তা মোকাবেলা করা। তিনি পুনরায় জোর দেন যে, আইসিই-র হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন শাখা বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনার একটি অপরিহার্য অংশ এবং সংস্থা সব সময় সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। পু-এর উদ্বেগের পরেও লায়ন্স কোনো কার্যক্রম স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দেননি।
এই সাক্ষ্যটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি মুহূর্তে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে আইসিই-র পূর্ববর্তী অপারেশনগুলো নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠী ও কিছু কংগ্রেস সদস্যের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। পু ও অন্যান্য ডেমোক্র্যাটিক সদস্যরা আইসিই-র কঠোর নীতি ও তার ফলে সৃষ্ট ভয়কে বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক চিত্রের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান পক্ষ থেকে আইসিই-র নিরাপত্তা ভূমিকা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন এই ধরনের বিতর্কের ফলে ভবিষ্যতে আইসিই-র কার্যক্রমে কোনো সমন্বয় বা সীমাবদ্ধতা আনা হতে পারে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। হাউসের নিরাপত্তা কমিটি আগামী সপ্তাহে অতিরিক্ত শোনানো সাক্ষ্য ও বিশ্লেষণ সেশনের মাধ্যমে বিষয়টি আরও গভীরভাবে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে। শেষ পর্যন্ত, আইসিই-র নিরাপত্তা নীতি ও ভক্তদের অধিকার সংরক্ষণে সমতা বজায় রাখার জন্য কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা টুর্নামেন্টের সাফল্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক চিত্রের ওপর প্রভাব ফেলবে।



