গত মঙ্গলবার কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামানের সঙ্গে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সেনা সদরে অনুষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম নানা আকুফো আডো উপস্থিত ছিলেন, যিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
বৈঠকের তথ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষের পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময়ের উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচনের পূর্বাভাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
এর আগে গত সোমবার কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে। এই বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।
কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ার ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মোট ২৩ সদস্যের দল উপস্থিত ছিল। বৈঠকে নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতি সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।
ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কোনো ধরণের নাশকতা বা সহিংসতা রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ভোটের এক দিন আগে, বুধবার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করা লক্ষ্য।
সেই সঙ্গে সেনাবাহিনী ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে, শরণার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে।
কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশদ জানিয়ে বলেন।
তানভীর আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটার জন্য কাঁটাতারের বেড়া মেরামত, চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং বিশেষ অভিযান চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে কক্সবাজারের চারটি দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বা বাইরে অশান্তি সৃষ্টি হলে, সেনাবাহিনী পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।
এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



