জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রেস কনফারেন্সে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভী মঙ্গলবার স্পষ্ট করে জানান, ২০২৪ সালের দশম T20 বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও দেশের ক্রিকেটারদের যৌথ সিদ্ধান্তের ফল। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো অনুশোচনা নেই এবং দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য করা ত্যাগকে প্রশংসা করেছেন।
নাফিস আহমেদ নাদভী উল্লেখ করেন, “এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দেরই নেওয়া। তারা দেশের ক্রিকেট ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিজেরা ত্যাগ স্বীকার করেছে, যা বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা উদাহরণস্বরূপ থাকবে।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় মাটিতে দলকে পাঠানো না হওয়া একটি সচেতন ও সম্মিলিত পদক্ষেপ।
এক মাস আগে, ২২ জানুয়ারি, নাফিস আহমেদ নাদভী একই মঞ্চে উল্লেখ করেছিলেন যে, “সিকিউরিটি সংক্রান্ত কারণে ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।” তবে আজকের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারী নির্দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের নিজস্ব সিদ্ধান্তও এই ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ২৩ জানুয়ারি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে এই সংস্করণের T20 বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন জানায়। নাফিস আহমেদ নাদভীর এই মন্তব্যের এক দিন আগে, ICC-র এই সিদ্ধান্তের পূর্বে, তিনি ইতিমধ্যে দলকে ভারত না যাওয়ার কারণকে নিরাপত্তা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
নাফিস আহমেদ নাদভী এছাড়াও লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কূটনৈতিক কৌশলকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, ICC এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে লাহোরে হওয়া আলোচনায় যে ক্রিকেট কূটনীতি গড়ে উঠেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত ICC আমাদেরকে কোনো শাস্তি না দিয়ে, বরং একটি বৈশ্বিক ইভেন্টের সহ-আয়োজক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।” এই কূটনৈতিক সাফল্যকে তিনি “একটি উজ্জ্বল অর্জন” বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত পুনরায় নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের সরকারও টুর্নামেন্টের সময় একটি অস্থায়ী নির্দেশ জারি করেছিল, যেখানে পাকিস্তান দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে খেলা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফের হস্তক্ষেপে, একই সপ্তাহে ঐ নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয় এবং দলকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জটিল নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দিকগুলোকে উন্মোচিত করে।
সারসংক্ষেপে, নাফিস আহমেদ নাদভীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্তটি একতরফা নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বিবেচনা ও ত্যাগের ফল। তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ না করে, দেশের নিরাপত্তা ও ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপকে সঠিক বলে জোর দেন। একই সঙ্গে, লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্যকে তিনি দেশের ক্রীড়া কূটনীতির একটি মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এই সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতির দিকনির্দেশনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে থাকবে, বিশেষ করে ICC ও অন্যান্য বর্ডারগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনায়।



