গুগল একটি আইনি আদেশের ভিত্তিতে ICE-কে ছাত্র সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ব্যবহারকারী নাম, ঠিকানা, IP ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। তথ্য সরবরাহের আদেশটি বিচারকের অনুমোদন ছাড়া জারি করা হয়েছিল। এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমান্ডলা থমাস-জনসনের সাথে সম্পর্কিত। ICE এই তথ্য ব্যবহার করে তার ভিসা বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায়।
আমান্ডলা থমাস-জনসন ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল এবং একবার প্রো-ফিলিস্তিনি প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন। তার ভিসা রদ করা হয়ার দুই ঘণ্টা আগে গুগলকে তথ্য সরবরাহের আদেশ পাওয়া যায়।
গুগল ICE-কে ব্যবহারকারীর নাম, শারীরিক ঠিকানা, গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সেবার তালিকা, IP ঠিকানা, ফোন নম্বর, সাবস্ক্রাইবার আইডি এবং ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান করেছে। এই তথ্যগুলো অ্যাকাউন্টের মেটাডেটা এবং পরিচয় প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়।
গুগল ও ICE উভয়ই মন্তব্যের জন্য অনুরোধের জবাব দেয়নি। আইনি আদেশটি “প্রশাসনিক সাবপোনা” নামে পরিচিত, যা ফেডারেল সংস্থা সরাসরি জারি করে, বিচারকের অনুমোদন ছাড়া।
প্রশাসনিক সাবপোনা ইমেইল বিষয়বস্তু, অনলাইন অনুসন্ধান বা অবস্থান ডেটা সরাসরি দাবি করতে পারে না, তবে ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, IP ইত্যাদি মেটাডেটা চায়। এই ধরনের আদেশের লক্ষ্য হল অনলাইন অ্যাকাউন্টের মালিকের পরিচয় প্রকাশ করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের বিরুদ্ধে একই ধরনের আদেশ ব্যবহার করেছে। এতে অ্যানোনিমাস ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, ICE উপস্থিতি ও রেইডের তথ্য শেয়ারকারী ব্যবহারকারী এবং ট্রাম্পের নীতি সমালোচনাকারী ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।
গুগল ও অন্যান্য টেক কোম্পানি এই ধরনের আদেশে বাধ্যতামূলকভাবে সাড়া দিতে পারে, তবে আদালতের আদেশের তুলনায় তাদের উপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই তারা কখনও কখনও তথ্য সরবরাহে আপত্তি জানাতে পারে।
এই ঘটনার ফলে গুগলের গোপনীয়তা নীতি এবং ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের ডেটা কীভাবে ব্যবহার হয় তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
গুগল পূর্বে ডেটা শেয়ারিং নীতি সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করেছে, তবে প্রশাসনিক সাবপোনার মাধ্যমে সরবরাহ করা তথ্যের পরিমাণ ও প্রকার নিয়ে এখন নতুন আলোচনার দরজা খুলে গেছে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক সাবপোনা ফেডারেল সংস্থার জন্য দ্রুত তথ্য সংগ্রহের উপায়, তবে এটি নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। ভবিষ্যতে আদালতের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়ার সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।
গুগল ও ICE-র মধ্যে এই তথ্য বিনিময় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ভিসা ও অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে।
শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডেটা সুরক্ষা নীতি এবং সরকারী সংস্থার তথ্য চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং আইনগত প্রয়োজনীয়তা মেনে চলা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



