যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ক্যাপিটল হিলে শোনানো শোনানিতে স্বীকার করেছেন যে, ২০১২ সালে তিনি এবং তার পরিবার জেফ্রি এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে এক ঘন্টার লাঞ্চে অংশ নিয়েছিলেন। লুটনিকের এই স্বীকারোক্তি পূর্বে তিনি যে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক কেটে দিয়েছেন বলে দাবি করছিলেন, তার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
লুটনিকের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি, তার স্ত্রী, চারটি সন্তান এবং ন্যানিগণ একসাথে দ্বীপে গিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা পরিবারসহ একটি নৌকায় ভ্রমণ করছিলাম এবং দ্বীপে লাঞ্চের জন্য থেমে গিয়েছিলাম”। লাঞ্চের সময়কাল প্রায় এক ঘন্টা ছিল।
এই ভ্রমণের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে লুটনিকের দ্বীপে উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এপস্টেইনকে শিশুর যৌন সেবা চাওয়ার জন্য ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, এবং তার দোষ স্বীকারের চার বছর পরেই এই ভ্রমণ ঘটেছে।
লুটনিকের এই স্বীকারোক্তি ক্যাপিটল হিলে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, “আমি কেন এ ভ্রমণ করেছিলাম তা স্মরণ করতে পারছি না, তবে আমরা তা করেছি”। অতিরিক্তভাবে, তিনি ১৪ বছরের সময়কালে এপস্টেইনের সঙ্গে মোট তিনটি সাক্ষাৎ ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন, যার মধ্যে দ্বীপে লাঞ্চের পাশাপাশি আরেকটি এক ঘণ্টার বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত।
ন্যায়বিচার বিভাগের ফাইলগুলোতে দেখা যায়, লুটনিকের এপস্টেইনের সঙ্গে প্রায় দশটি ইমেইল সংযোগ রয়েছে, যা প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথির মধ্যে পাওয়া গেছে। লুটনিক জোর দিয়ে বলেন, “১৪ বছরের সময়ে আমি তার সঙ্গে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখিনি, তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ খুবই সীমিত ছিল”।
লুটনিকের এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিছু আইনসভা সদস্য কঠোর সমালোচনা করেন। সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন, মারিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট, তার স্বীকারোক্তি সম্পর্কে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং পূর্বের বিরোধপূর্ণ বিবরণকে তুলে ধরেন। অন্যদিকে, কিছু আইনপ্রণেতা লুটনিকের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে থাকলেও, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লুটনিককে সম্পূর্ণ সমর্থন করছেন এবং তার পদে থাকা অব্যাহত রাখবেন। এই সমর্থন লুটনিকের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
লুটনিকের স্বীকারোক্তি তার পূর্বের প্রকাশিত বিবৃতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি ২০০৫ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক কেটে দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই সময়ে এপস্টেইন তার বাড়িতে একটি ম্যাসাজ টেবিলের উপস্থিতি নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেছিল, যা লুটনিকের সঙ্গে তার সম্পর্কের শেষের সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর, আইনসভা এবং জনসাধারণের মধ্যে লুটনিকের নৈতিকতা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও লুটনিককে এপস্টেইনের অপরাধে কোনো সরাসরি দোষারোপ করা হয়নি, তবে তার এই ভ্রমণ এবং পরিবারসহ উপস্থিতি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত ন্যায়বিচার বিভাগের অতিরিক্ত নথি এবং ইমেইল সংযোগের বিশ্লেষণ। ভবিষ্যতে লুটনিকের পদে থাকা এবং তার নীতি-নির্ধারণের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয়।
সামগ্রিকভাবে, লুটনিকের স্বীকারোক্তি এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীতের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা রাজনৈতিক ও নৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তা নিশ্চিত যে, লুটনিকের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং হোয়াইট হাউসের সমর্থন এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে।



