18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমান: ভোটের মাঠ হুমকির মুখে তরুণেরা হাল ছাড়বে না

শফিকুর রহমান: ভোটের মাঠ হুমকির মুখে তরুণেরা হাল ছাড়বে না

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা মোকাবেলা করতে তরুণ প্রজন্মের দৃঢ়সঙ্কল্প থাকবে—এ কথা জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান গতকাল রাত মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন স্থানে ঘটমান হামলা ও সংঘাতের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনের সামগ্রিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার জীবনে একবারেরও ভোট দেননি, তাই ভোটের মাঠে কোনো হুমকি দেখা দিলে তরুণরা তা স্বীকার করবে না।

শফিকুরের মতে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ হল তাদের দায়িত্ব পালন করা; যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ নিজে থেকেই শৃঙ্খলা রক্ষা করে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করবে। তিনি এ কথায় জোর দেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঠিক কাজের ফলে জনগণের আর কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না।

অতীত চারটি নির্বাচনে মানুষ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারেনি বলে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তবে এইবারের নির্বাচনে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। তিনি বর্ণনা করেন, গ্রামগুলোতে ভোটাররা দলবদ্ধ হয়ে, ঈদ উৎসবের মতো উল্লাসের সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন এবং তারা ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত অনুযায়ী সরকার গঠন করতে চান।

ফলাফল যাই হোক না কেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সহ একাদশ দল ফলাফল স্বীকার করবে কিনা তা ভোটের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিচালনার ওপর নির্ভর করবে, শফিকুর বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি ভোট সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে দলটি ফলাফল মেনে নেবে এবং জনগণও সঠিক রায় দেবে বলে বিশ্বাস করা হয়।

নির্বাচন দিবসে গুজবের সম্ভাবনা স্বীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, একাদশ দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না এলে বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি সাড়া না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দলই পরাজয়ের ভয়ে ভীত হয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে পারে, তবে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

শফিকুরের মন্তব্যে তিনি ভোটারদেরকে আহ্বান জানান, ভোটাধিকার ব্যবহার করার পরেও ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না রেখে, ফলাফল হাতে না নিয়ে ফিরে না যাওয়ার জন্য। তিনি সতর্ক করেন, ভোট দেওয়ার পরেও ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে, আর ভোটের আগে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হতে পারে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুরের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর সঠিক দায়িত্ব পালন এবং ভোটারদের স্বতন্ত্র ইচ্ছার প্রতি সম্মান—এ দুটোই সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে জনগণকে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না, আর যদি সংস্থা ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই স্বয়ং শৃঙ্খলা রক্ষা করবে।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শফিকুরের বক্তব্য জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী কৌশলকে স্পষ্ট করে—যুব ভোটারদের শক্তিশালী সমর্থন অর্জন এবং নিরাপত্তা সংস্থার ওপর আস্থা জোরদার করা। এছাড়া, একাদশ দলের সমন্বিত অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত গুজবের প্রতি সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বানও রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

শফিকুরের মন্তব্যের পর, জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্ব পালন এবং ভোটারদের স্বচ্ছ ভোটের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, ভোটের দিন কোনো হুমকি দেখা দিলে, তরুণ প্রজন্মের দৃঢ়তা এবং জনগণের ঐক্যই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখবে।

সারসংক্ষেপে, শফিকুরের বক্তব্য ভোটের নিরাপত্তা, যুব শক্তি এবং ফলাফলের স্বীকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীভূত, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিফলন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments