বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠের আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছে। অনুদানটি মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানের হাতে হস্তান্তর করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামোকে উন্নত করে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধি করা।
অনুদানের চেকটি বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন সরাসরি উপাচার্যকে প্রদান করেন। চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পাশাপাশি ক্রীড়া পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদেক কায়েম এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিসিবি প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, শীঘ্রই একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর করা হবে। এই স্মারকের অধীনে বিসিবি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি ক্রিকেট মৌসুমে কমপক্ষে একশো দিন ব্যবহার করবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও ম্যাচের জন্য নিয়মিতভাবে ব্যবহারযোগ্য হবে।
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র। তবে অবকাঠামোর পুরনো অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঠের ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। দুই কোটি টাকার এই অনুদান দিয়ে মাঠের পিচ, আউটফিল্ড, লাইটিং এবং দর্শক সিটিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।
বিসিবি এই পদক্ষেপকে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ পরিবেশ উন্নত করে জাতীয় দলকে ভবিষ্যতে শক্তিশালী করা লক্ষ্য। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়-সামাজিক সংযোগ বাড়িয়ে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
অনুদানের শর্তে উল্লেখ আছে যে, মাঠের ব্যবহার শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্যও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে ক্রিকেট মৌসুমে নির্ধারিত একশো দিনের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা উভয় পক্ষের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।
উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান অনুদানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছিলেন, “এ ধরনের সমর্থন আমাদের ক্রীড়া অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুদানটি মাঠের পুনর্নবীকরণে ত্বরান্বিত করবে এবং ভবিষ্যতে বড় ম্যাচের আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়াবে।
বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীনও অনুদানের প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের উন্নয়ন আমাদের ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র দেশের ক্রীড়া পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষর পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে।
অনুদানের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগের প্রধানও আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেন, উন্নত মাঠে প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এছাড়া, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিসিবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যৌথ উদ্যোগ ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। দুই কোটি টাকার অনুদান এবং সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মাঠের আধুনিকায়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



