রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এডহক ভিত্তিক নিয়োগের গুজব সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে কোনো নিয়োগ পরিকল্পনা নেই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি রাবি জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এবং এতে ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার বিষয়বস্তু ও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সভায় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের কোনো প্রস্তাব বা উদ্যোগ আলোচনা করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডা আইটেমও অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই, এই মুহূর্তে রাবিতে কোনো নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া সবসময় বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়; অস্থায়ী বা এডহক ভিত্তিক নিয়োগের জন্য কোনো বিশেষ অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রশাসন এ বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো নিয়োগের প্রয়োজন হলে তা যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি প্রচারিত নিয়োগ সংক্রান্ত সংবাদগুলো গুজব এবং কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই গুজবগুলোকে ভিত্তিহীন বলে গণ্য করে রাবি প্রশাসন কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিবেশ সম্পর্কে জানিয়ে বলা হয়েছে, রাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে। ক্লাস ও পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে এবং শিক্ষার্থীদের কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।
যে কোনো তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এভাবে গুজবের চক্রে পড়ে ভুল ধারণা গড়ে তোলা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
প্রশাসন আরও উল্লেখ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকরী পরিচালনা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া সুষ্ঠু শাসন সম্ভব নয়।
পূর্বে রাবিতে ‘জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি সংগঠন নিয়োগ দাবির ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। এই গোষ্ঠীটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের দাবি তুলে ধরে ছাত্র-শিক্ষক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ বাড়িয়ে দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত রাবির ৫৪৬তম সিন্ডিকেট সভা এই উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভায় গুজবের বিষয়টি কোনো এজেন্ডা হিসেবে উঠে না আসে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতি, নিয়োগ বা পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে শঙ্কা হলে সরাসরি রাবি জনসংযোগ দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে ফোন বা ইমেইল করে নিশ্চিত করুন; সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা তথ্যের উৎস যাচাই না করলে গুজবের শিকারে পড়তে পারেন।



