প্রোডাকশন ডিজাইনার তামারা ডেভেরেল গিলারমো দেল টোরোর ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ ছবির ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের ল্যাব নির্মাণে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেল টোরোর সঙ্গে তার সহযোগিতা প্রায় ত্রিশ বছর আগে ‘মিমিক’ ছবিতে শুরু হয় এবং এই প্রকল্পের জন্য তিনি শুরুর দিক থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
ডেভেরেল স্কটল্যান্ডে শুটিংয়ের জন্য স্থান অনুসন্ধান করতে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেন, কারণ মেরি শেলির মূল উপন্যাসের লেখার স্থানই সেখানে। গিলারমো দেল টোরোও এই অনুসন্ধানে তার সঙ্গে ছিলেন, যা দুজনের মধ্যে সৃজনশীল সমন্বয়কে আরও গভীর করে তুলেছিল।
স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে স্কাউটিং করার সময় তারা পাথরের গড়া গলির ধরণ, পুরনো পাথরের টেক্সচার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন আর্কযুক্ত ভবন থেকে অনুপ্রেরণা নেন। স্টার্লিংয়ের ন্যাশনাল ওয়ালেস মনুমেন্টের গঠন ভিক্টর ল্যাবের নকশায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, আর গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গম্বুজাকার ছাদগুলো ক্রিয়েচার (যাকে জেকব এলোর্ডি অভিনয় করেছেন) এর কোষের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে।
ডেভেরেল বলেন, ঐতিহাসিক স্থানে উপস্থিতি এবং গিলারমো দেল টোরোর সঙ্গে কাজ করা তাদের সৃজনশীল প্রক্রিয়াকে তীব্রভাবে উজ্জীবিত করেছে। এই ধরনের সরাসরি অভিজ্ঞতা ডিজাইনের সূক্ষ্ম বিবরণে বড় ভূমিকা রাখে, যা শেষ পর্যন্ত ছবির ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ ছবিটি মোট নয়টি ওস্কার নোমিনেশন পেয়েছে, যার বেশিরভাগই সেটের ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের জন্য। দেল টোরো পুনরায় কাজ করা সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেন, যাতে প্রতিটি বিভাগ একে অপরের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে পারে।
এই সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ড্যান লাউস্টেনের সঙ্গে কাজ করা, যিনি ছবির সীনগুলোকে রোয়িং ক্যামেরা শৈলীতে ধারণ করার দায়িত্বে ছিলেন। লাউস্টেনের আলোকসজ্জা পদ্ধতি প্রায়শই বাইরের দিক থেকে আসে, ফলে ডেভেরেলকে সেট ডিজাইন করার সময় তার আলোক পরিকল্পনাকে মাথায় রাখতে হয়।
সেটের বিশালতা ও জটিলতা বিবেচনা করে, ডেভেরেল লাউস্টেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে নিশ্চিত করেন যে ল্যাবের প্রতিটি কোণ আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। এই ধরনের পারস্পরিক সমন্বয়ই ছবির বিশাল স্কেল ও গভীরতা প্রকাশে সহায়তা করে।
ডেভেরেলের অনুসন্ধানমূলক পদ্ধতি এবং দেল টোরোর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’কে আধুনিক চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি ভিজ্যুয়াল মাস্টারপিসে রূপান্তরিত করেছে। স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক সিনেমাটিক প্রযুক্তির মিশ্রণই ছবির অনন্য পরিবেশ গড়ে তুলেছে।
ফিল্মের নকশা দলটি স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণাকে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের চাহিদার সঙ্গে মেলাতে সক্ষম হয়েছে। এই সমন্বয়ই ছবির নান্দনিকতা ও বর্ণনাকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রের সাফল্য এবং নোমিনেশনগুলো ডেভেরেল ও লাউস্টেনের পারস্পরিক সহযোগিতার ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি সেটের বিবরণ আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিকল্পিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ প্রদর্শনীতে এই ধরনের গভীর গবেষণা ও সমন্বয় প্রক্রিয়া অন্যান্য বড় প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, যা শিল্পের মানদণ্ডকে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবে।



