18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঢাকায় পল্লবিতে রাতের দেরিতে ১০ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ড

ঢাকায় পল্লবিতে রাতের দেরিতে ১০ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ড

মঙ্গলবার রাত ১১টা ১২ মিনিটের দিকে ঢাকার পল্লবিতে অবস্থিত ১০ তলা উচ্চতার একটি বহুতল ভবনে অগ্নি প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যার ফলে স্থানীয় অগ্নি সেবা ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা শাজাহান ইসলাম জানান, দুইটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অগ্নি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা দেখায়।

অগ্নি তৃতীয় তলায় শুরু হওয়ার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ভবনের কাঠামো ও আশেপাশের কিছু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। অগ্নি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভাতে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলের রিপোর্ট দাখিল করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত চালু করেছে, যেখানে ইলেকট্রিক শোর্টস, গ্যাস লিক বা মানবিক অবহেলার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।

অগ্নি নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়া দুইটি ফায়ার ইঞ্জিনের দল দ্রুত কাজ করে, তবে অগ্নি বিস্তারের গতি ও ভবনের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, অগ্নি সনাক্তকরণের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ত্রিস্তরে আগুনের তীব্রতা ও শিখা উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়, যদিও কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও ভবনগুলোর অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল ভবনের বৈদ্যুতিক সিস্টেম, গ্যাস সংযোগ এবং আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাব্য উৎসগুলো পরীক্ষা করছে। প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো অনুমান বা অনুমানমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা হচ্ছে, যাতে তথ্যের যথার্থতা বজায় থাকে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা এবং নিয়মিত অগ্নি প্রশিক্ষণ ও ড্রিলের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা সিস্টেমে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে যদি কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা সংস্থার বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতা আরোপের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। স্থানীয় আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অগ্নি নিয়ন্ত্রণের পর, ফায়ার সার্ভিসের দল ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি মূল্যায়ন করে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। এছাড়া, স্থানীয় কমিউনিটি ও বাসিন্দাদের জন্য অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা শহরের অগ্নি সেবা ও সিভিল ডিফেন্সের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রশংসনীয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিদর্শনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা জরুরি। ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অবশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সম্পূর্ণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে, যাতে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments