মোগাদিশু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার সকালের উড্ডয়নের পর কয়েক মিনিটে টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হওয়া ফক্কার ৫০ মডেলের যাত্রীবাহী বিমানটি সমুদ্রের তীরে অবতরণ করে। ৫৫ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে কোনো গুরুতর আঘাত না হয়ে, সকলেই নিরাপদে বেরিয়ে আসে। ঘটনাটি সোমালিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAA) এবং স্টারস্কি এভিয়েশন কোম্পানির তত্ত্বাবধানে দ্রুত তদন্তের সূচনা করেছে।
বিমানটি মোগাদিশু শহরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে উড়ে যাওয়ার পরই ক্রু একটি অস্বাভাবিক ত্রুটি জানায় এবং অবিলম্বে ফিরে আসার অনুরোধ করে। তবে রানওয়ে শেষ পর্যন্ত অতিক্রম করে সমুদ্রের অল্প গভীর জলে থেমে যায়। CAA-র পরিচালক আহমেদ মাকালিন হাসান উল্লেখ করেন, “বিমানটি টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে রানওয়ে শেষ পর্যন্ত অতিক্রম করে, কিন্তু পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে তা সমুদ্রের তীরে নিরাপদে থেমে যায়।”
স্টারস্কি এভিয়েশনের মুখপাত্র হাসান মোহাম্মদ আদেন জানান, “পাইলটের দ্রুত ও শীতল সিদ্ধান্ত গ্রহণই এই জরুরি অবতরণকে সফল করেছে। আমরা তার কাজের প্রশংসা করছি এবং সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারায় কৃতজ্ঞ।” এদিকে, বিমানটি সমুদ্রতটে থেমে যাওয়ার পর যাত্রীরা ধীরে ধীরে বিমান থেকে বেরিয়ে সমুদ্রের তীরে হাঁটতে থাকে, কোনো গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
আফ্রিকান ইউনিয়নের সোমালিয়া মিশন এবং জাতিসংঘের শান্তি বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরিবহন মন্ত্রীও现场 উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এই ধরনের জরুরি অবতরণ বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাশিদ আলি মন্তব্য করেন, “সোমালিয়ার বিমান চলাচলের অবকাঠামো এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে, তাই এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।”
সোমালিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ঘটনাটির মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। যদিও এখনো ত্রুটির প্রকৃতি স্পষ্ট নয়, তবে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন এবং পাইলট প্রশিক্ষণের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে সংস্থা জানিয়েছে।
এই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। হায়দ্রাবাদে বসবাসকারী সোমালিয়া-ইন্ডিয়ান বাণিজ্য চেম্বারের সভাপতি জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, “সোমালিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক রুটে বিমান নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের ঘটনা বাণিজ্যিক আস্থা ক্ষুন্ন করতে পারে, তাই দ্রুত সমাধান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।” এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দলও এই ঘটনার পর সোমালিয়ার এয়ারলাইনগুলোর নিরাপত্তা প্রোটোকল পর্যালোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সোমালিয়ার সরকার এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরিবহন মন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করব, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা না ঘটে।” এদিকে, আফ্রিকান ইউনিয়নের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাবি উমার উল্লেখ করেন, “সোমালিয়ার বিমান চলাচলকে স্থিতিশীল করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অপরিহার্য।”
বিমানটি সমুদ্রের তীরে থেমে যাওয়ার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক দল একত্রে বেঁচে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে স্থানান্তর করে। কোনো মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও, সমুদ্রের তীরে অবতরণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি, যা পাইলটের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ।
সোমালিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং স্টারস্কি এভিয়েশন উভয়ই এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ জরুরি অবতরণ এড়াতে প্রযুক্তিগত আপডেটের পরিকল্পনা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এই ঘটনা বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে সমুদ্রতটে জরুরি অবতরণ রোধে সহায়তা করবে।
বিমানটি এখনো সমুদ্রের তীরে অবস্থান করছে, এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও বিশদ জানানো হবে। সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায়, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমগ্র আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পের দৃষ্টি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।



