বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলা, পারশুন গ্রামে সোমবার রাত ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে বিএনপি ও জামাত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়। ঘটনাস্থলে জানানো মতে, জামাত কর্মীরা ভোট সংগ্রহের জন্য টাকা বিতরণ করছিল বলে অভিযোগে বিএনপি সমর্থকরা তাদের আটক করে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যায়।
বিএনপি-র নন্দিগ্রাম শাখার প্রধান মাসুদ রানা, যিনি স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত, তার বাড়িতে আটক করা জামাত কর্মীদের মুক্তি দিতে বৃহত্তর একটি দল হামলা চালায়। এই আক্রমণে রানা ও তার পারিবারিক সদস্যদের ওপর সরাসরি হামলা হয়।
বিএনপি-র বগুড়া-৪ প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন, জামাত-শিবির কর্মীরা রানার চোখকে সম্পূর্ণভাবে বের করে ফেলেছে। তিনি আরও জানান, রানা ছাড়াও চারজন বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে এবং রানা বর্তমানে বগুড়া শহরের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শোয়ারে চিকিৎসাধীন।
রানার মা রাবেয়া, যখন তার পুত্রের চোখের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন, তখনই অসুস্থ হয়ে যান এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। রাবেয়ার নামাজ-এ-জনাজা রাত ৯টায় তাদের পূর্বপুরুষের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়।
হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর মনজুর‑এ‑মুরশেদ রানা’র চোখের আঘাতকে “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেন, তবে চোখ বের করে ফেলা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেননি। একই সময়ে, হাসপাতালের চোখের বিভাগে গোপনীয়তা চেয়ে কথা বলা একজন ডাক্তার জানান, রানা’র ডান চোখের সোকেটের হাড় ভাঙা হয়েছে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি রানা’র রোগীকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অফথালমোলজি ও হসপিটালে রেফার করা হয়েছে।
জামাতের বগুড়া-৪ প্রার্থী মোস্তাফা ফয়সাল আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেনাকাটার অভিযোগ অস্বীকার করে, বলেন বিএনপি কর্মীরা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই হামলা চালায়। তিনি জানান, দুইজন জামাত কর্মী আহত হয়েছে।
নন্দিগ্রাম থানা অফিসার ইন চার্জ মিজানুর রহমান ঘটনাটি সম্পর্কে জানার কথা স্বীকার করেন, তবে বিস্তারিত জানার অভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মঙ্গলবার রাত ৮টায় পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নির্বাচনী সময়ে ভোট সংগ্রহের অভিযোগ ও সহিংসতা বাড়ার ফলে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হতে পারে। তবে উভয় পার্টি ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি সমালোচনা জানিয়ে, দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে।
বিএনপি ও জামাত উভয়েরই দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষের মূল কারণ ভোট সংগ্রহের জন্য নগদ বিতরণ ও তা বিরোধী দলের হস্তক্ষেপ। এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি, এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে নির্বাচনী পরিবেশে অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়তে পারে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। উভয় দলই আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলে ধরছে।



