টুসন, অ্যারিজোনায় ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গুথ্রি, টুডে শো’র সহ-অ্যাঙ্কর সাভান্না গুথ্রির মা, ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় অপহরণের সন্দেহে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় পিমা কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) একত্রে তদন্ত চালিয়ে আসছে এবং আজ পর্যন্ত দশম দিন। পরিবার জানায়, গুথ্রি কোনো ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিতে না পারায় তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।
এফবিআই সোমবার একটি নজরদারি ফটো প্রকাশ করে, যেখানে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের চেহারা দেখানো হয়েছে; তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজন বা ব্যক্তিগত আগ্রহের ব্যক্তি চিহ্নিত করা যায়নি। প্রকাশিত ছবিতে একক ব্যক্তির ছায়া দেখা যায়, যার পরিচয় নিশ্চিত করা এখনও বাকি। এফবিআই উল্লেখ করে, গুথ্রি পরিবার ও সন্দেহভাজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফিবিএ ফিনিক্সের মুখপাত্র কনর হ্যাগান জানান, এফবিআই এজেন্ট, বিশ্লেষক ও পেশাদার কর্মীরা রাতো-দিন কাজ করে গুথ্রিকে তার পরিবারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে টুসনে ২৪ ঘণ্টা চালু একটি কমান্ড পোস্ট রয়েছে, যেখানে সংকট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষণ সহায়তা ও তদন্ত দল একত্রে কাজ করছে। দেশের অন্যান্য এফবিআই ফিল্ড অফিসের কর্মীও টুসনে ত্বরান্বিতভাবে পাঠানো হয়েছে।
গুথ্রির বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া কোনো ছবি বা ভিডিও রেকর্ড পুনরুদ্ধারের জন্য এফবিআই ও পিমা কাউন্টি শেরিফ অফিস বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভাব্য সিকিউরিটি ক্যামেরা ফুটেজ ও স্মার্ট হোম ডিভাইসের ডেটা সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো নতুন দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সাভান্না গুথ্রি সোমবার বিকেলে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে তিনি জনগণের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, পরিবার এখন এক কঠিন মুহূর্তে রয়েছে এবং গুথ্রি কোথায় আছে তা অজানা, তাই কোনো অস্বাভাবিক তথ্যই হোক না কেন তা তৎক্ষণাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানাতে অনুরোধ করেন। তিনি যুক্ত করেন, টুসনের বাইরে থেকেও কেউ যদি কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখেন, তবে তা অবিলম্বে রিপোর্ট করা উচিত।
অপহরণ ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, কারণ গুথ্রি কোনো স্বেচ্ছা গমন নয়, বরং অপ্রত্যাশিতভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। তার অনুপস্থিতি প্রথমে পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ্য করা হয়, যখন তিনি নির্ধারিত একটি অনলাইন ইভেন্টে উপস্থিত না হন। এরপর দ্রুত পুলিশকে জানানো হয় এবং অনুসন্ধান শুরু হয়।
এফবিআই ও স্থানীয় শেরিফ অফিসের সমন্বয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য গাড়ি ট্র্যাকিং, সেল ফোনের সিগন্যাল বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎকার। একই সঙ্গে, গুথ্রির বাড়িতে সম্ভাব্য প্রবেশের চিহ্ন বা কোনো ভাঙ্গন চিহ্নের জন্য ফোরেন্সিক দল কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি।
জনসাধারণের সহায়তা অপরিহার্য বলে এফবিআই জোর দিয়ে বলছে যে, কোনো ছোটো তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তারা টুসন ও আশেপাশের এলাকায় বাসিন্দাদের অনুরোধ করছে, যদি তারা কোনো অস্বাভাবিক গাড়ি, ব্যক্তি বা শব্দ শোনেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ বা এফবিআই-তে জানাতে।
এই মুহূর্তে গুথ্রির অবস্থান বা অপরাধীর পরিচয় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, এবং কোনো গ্রেফতারও হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট পেতে এফবিআই ও শেরিফ অফিসের অফিসিয়াল চ্যানেলগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
গুথ্রি পরিবারের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন, এবং সাভান্না গুথ্রি মিডিয়ার মাধ্যমে বারবার জনগণের সমর্থন ও তথ্যের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবার এখনো গুথ্রির নিরাপদ ফিরে আসার আশায় রয়েছে এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। টুসন শহরের কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়িয়ে দিয়েছে।
এফবিআই ও পিমা কাউন্টি শেরিফ অফিসের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, এবং নতুন কোনো সূত্র পাওয়া মাত্রই তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। গুথ্রি পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধ অনুসারে, যেকোনো তথ্য দ্রুত জানিয়ে সাহায্য করা প্রত্যাশিত।



