ফিনল্যান্ডের একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে, আপেন্ডিসাইটিসের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা রোগীদের মধ্যে দশ বছর পরও অর্ধেকের বেশি শল্যচিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব। গবেষণাটি ২০০৯ সালে শুরু হয় এবং মোট ৫৩০ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাদের আপেন্ডিসাইটিসের অবস্থা জটিল নয়, অর্থাৎ অঙ্গটি ফেটে যায়নি বা প্যাঙ্কচারেড নয়। দশ বছরের ফলো‑আপে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ২২৪ জন এবং শল্যচিকিৎসা গ্রুপের ২১৯ জন রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ আপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয়, যা পেটের ডান দিকের ছোট অঙ্গের প্রদাহের ফলে ঘটে। ঐতিহ্যগতভাবে, রোগের তীব্রতা বাড়লে অঙ্গটি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে শল্যচিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক দশকে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা বাড়ছে।
প্রাথমিকভাবে, শল্যচিকিৎসা ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সংশয় ছিল, কারণ অঙ্গের ফাটলে পেরিটোনিয়াল ইনফেকশন হতে পারে, যা জীবনহানিকর হতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে, রোগীর পুনরুদ্ধার সময় কমে এবং অপারেশন সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস পায়। এই পরিবর্তনটি নতুন ক্লিনিকাল গাইডলাইনেও প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যান্টিবায়োটিককে প্রথম পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের গবেষণায় রোগীদের দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়: একদলকে সরাসরি শল্যচিকিৎসা করা হয়, অন্যদলকে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দেওয়া হয়। উভয় গ্রুপই অ-জটিল আপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত ছিল, ফলে অঙ্গের ফাটল বা পেরিটোনিয়াল অ্যাবসেসের ঝুঁকি কম ছিল। রোগীদের বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক অবস্থা সমানভাবে বিতরণ করা হয়, যাতে ফলাফল তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য হয়।
দশ বছর পর, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ২২৪ জনের মধ্যে ১১২ জন শেষ পর্যন্ত শল্যচিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রথম বছরের মধ্যে ৭০ জন, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম বছরের মধ্যে ৩০ জন, এবং ষষ্ঠ থেকে দশম বছরের মধ্যে আরও ১২ জন অপারেশন করেন। বাকি রোগীরা কোনো পুনরাবৃত্তি লক্ষণ ছাড়াই তাদের স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যান। শল্যচিকিৎসা গ্রুপের রোগীদের অধিকাংশই প্রাথমিক অপারেশনেই সমাপ্তি পায়, এবং দীর্ঘমেয়াদে পুনরায় হসপিটাল ভর্তি কম দেখা যায়।
গবেষণার প্রধান বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো পুনরাবৃত্তি সন্দেহ হলে শল্যচিকিৎসা বাধ্যতামূলক করা হয়, ফলে কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন অতিরিক্ত হতে পারে। তবুও, অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা দেখিয়ে গবেষণাটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ফলাফলগুলো আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সম্প্রদায়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় স্কেলের গবেষণার ভিত্তি তৈরি করেছে।
এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয় যে, আপেন্ডিসাইটিসের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন করা রোগীর জন্য নিরাপদ বিকল্প হতে পারে, বিশেষত যখন অঙ্গটি ফাটেনি এবং সংক্রমণ সীমিত। তবে রোগীর অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন এবং নিয়মিত ফলো‑আপ অপরিহার্য, যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি লক্ষণ দ্রুত সনাক্ত করা যায়। চিকিৎসকরা রোগীর ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও পছন্দ বিবেচনা করে সর্বোত্তম পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
অ্যাপেন্ডিক্সের অপ্রয়োজনীয় অপারেশন এড়িয়ে রোগীর আর্থিক ও শারীরিক বোঝা কমাতে এই পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে, শল্যচিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা, যেমন সংক্রমণ, রক্তপাত বা অ্যানেসথেসিয়া ঝুঁকি হ্রাস পায়। রোগীর স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, চিকিৎসা সংস্থা গুলোকে এই গবেষণার ফলাফল ভিত্তিক গাইডলাইন আপডেট করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, দশ বছরের ডেটা দেখায় যে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি দিয়ে আপেন্ডিসাইটিসের প্রাথমিক চিকিৎসা করা রোগীদের অর্ধেকের বেশি শল্যচিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ থাকতে পারেন। এই তথ্য রোগী ও ডাক্তার উভয়ের জন্যই আশাব্যঞ্জক, কারণ এটি চিকিৎসার বিকল্প বাড়িয়ে দেয় এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণা এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।
আপনার যদি আপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে প্রথমে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন এবং রোগের অবস্থা অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা শল্যচিকিৎসা কোনটি উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করুন। চিকিৎসা সিদ্ধান্তে রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি নিয়ে আরও তথ্য জানতে চান?



