মোহন ভাগবত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর প্রধান, মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বাংলাদেশি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক কোটি হিন্দু যদি একসঙ্গে কাজ করে, তবে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। এই বক্তব্যের পেছনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বর্তমান নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভারতের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছিল।
সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, বাংলাদেশে এখনও এক কোটি হিন্দু বসবাস করে এবং তারা কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জনগোষ্ঠী যদি একতাবদ্ধ হয়, তবে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ভাগবত আরও উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্য না থাকলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলাই তাদের স্বয়ংরক্ষার মূল চাবিকাঠি, এবং এই ঐক্যই ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, তিনি আশ্বাস দেন যে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য সমর্থন প্রদান করবে। এই সমর্থন শুধু নৈতিক নয়, বরং প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রশিক্ষণ সরবরাহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজের ভিতরে শক্তি গড়ে তোলার জন্য তিনি সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভাগবত বলেন, প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা আত্মরক্ষার দক্ষতা অর্জন করবে এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে।
তাছাড়া, তিনি জানান যে RSS কর্মীরা সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তথ্য প্রদান করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের নির্বাসন করা শুরু হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এই গতি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও কতজন অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হয়েছে তা নিয়ে কোনো সরকারি সংস্থা স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হিসেবে তিনি ধর্মান্তকরণ, অনুপ্রবেশ এবং কম জন্মহারকে তিনটি প্রধান উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। এই তিনটি কারণই বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার হ্রাসের পেছনে কাজ করছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
বছরের শেষের দিকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে ভাগবত পূর্বে একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেই সময়েও তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন।
এই ধরনের প্রকাশনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি সরকারী নীতি ও সামাজিক সমন্বয়ের নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।
ভাগবত উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্য কেবল তাদের নিরাপত্তা নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। তিনি ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সারসংক্ষেপে, RSS প্রধানের এই আহ্বান বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য এক ধরনের কৌশলগত নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ঐক্য, আত্মরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সমন্বয়কে প্রভাবিত করবে, তা সময়ের পরীক্ষায় নির্ধারিত হবে।



