কোলম্বোতে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১৯০ রানে ৯ উইকেট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে। ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মহসিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন যে পাকিস্তান চাপের মধ্যে থাকবে, তবে পাকিস্তান তাদের প্রত্যাশা পূরণ করে না দিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৫ ওভারে ৫৪ রান তুলতে সক্ষম হয়, যেখানে উন্মুক্ত জুটি সাহিবজাদা ফারহান এবং বাবর আজমের সমন্বয় দৃঢ় ছিল। ফারহান ২৭ বলেই ৫০ রান গড়ে তুলেছেন, আর বাবর আজম ৫২ বলেই ৮২ রান সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে বাবর ১৮ বলেই ১৫ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ৩২ বলেই ৪৬ রান করে আউট হন, আর ফারহান ৪১ বলেই ৭৩ রান করে ত্যাগ করেন।
মিডিয়াম পেসার শ্যাডলি ফন শালভিকের ষষ্ঠ ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেন। প্রথম বলেই ১৭ বলের পরে ১৯ রান করা সাইম আইয়ুবকে আউট করে, আর একই ওভারের শেষ বলেই ক্যাপ্টেন সালমান আগাককে (১ রান) বাদ দিলেন। এই দুই উইকেটের ফলে পাকিস্তানের স্কোরের গতি কিছুটা ধীর হয়ে গেল, তবে শ্যাডলি শালভিকের মোট চারটি উইকেটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিংকে বাধাগ্রস্ত রাখতে সক্ষম হন।
পাকিস্তানের তৃতীয় ব্যাটসম্যান শাদাব খান ১২ বলেই ৩০ রান গড়ে তোলেন, যা টার্গেট ২০০ পার করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শেষের দিকে তিনি চারটি বলের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। শ্যাডলি শালভিকের এই পারফরম্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিংকে শুরুর থেকেই ভয় দেখিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তারা ১৫৮ রানে আট উইকেট নিয়ে থামতে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকড়ে থাকা মোহাম্মদ মহসিনের আত্মবিশ্বাসের পরেও, তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ৮ ওভারে ১৫৮ রান সংগ্রহ করতে পারে না। শ্যাডলি শালভিকের ছয় ওভারে নেওয়া দুইটি উইকেটের পাশাপাশি, তার মোট চারটি উইকেটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোরিং রেট কমে যায়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৩২ রানে হারের মুখোমুখি হয়।
এই জয় পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় জয় এনে দেয় এবং টুর্নামেন্টের সুপার ইইট পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে রাখে। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে পরাজিত হওয়ার পর, পাকিস্তান এখনো পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী নয়; তাদের পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন টানা দুই জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে সুপার ইইটের সীট নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন শিক্ষা, যেখানে শ্যাডলি ফন শালভিকের বোলিং পারফরম্যান্সের মুখ্য ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে।



