এই বছর অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে। ইরানীয় পরিচালক জাফার পনাহীর ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ইংরেজি সংলাপ বা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত অভিনেতা ছাড়া হলেও মূল স্ক্রিপ্ট ও আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে মনোনয়ন পায়।
পনাহীরের এই কাজ ক্যান্সে প্যাল্ম দে’ওর জয় অর্জন করেছিল এবং বিতরণকারী নীয়ন এটিকে সেরা ছবির প্রার্থী হিসেবে প্রচার করেছিল। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বহু পুরস্কার জিতেছে।
পনাহীর একজন বিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি দশকের বেশি সময় ধরে ইরানে ফিরে আসতে পারেননি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর কারাবাস ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার কাজের রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অস্কার জুড়ে এই বছর বিশ্বজুড়ে আরও অনেক শক্তিশালী চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। ফলে পনাহীরের কাজের তুলনায় আরও বেশি বিকল্প উপস্থিতি রয়েছে, যা পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।
নীয়ন কোম্পানি দুইটি অতিরিক্ত চলচ্চিত্রকে সেরা ছবির ও অভিনয় বিভাগে নিয়ে এসেছে। নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এবং ব্রাজিলের ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ উভয়ই এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এবং ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ উভয়ই নীয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে এবং সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। এই দুই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি অস্কারের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক চ্যান-উকের ‘নো আদার চয়েস’ এবং তাইওয়ানের শি-চিং সউয়ের ‘লেফট-হ্যান্ডেড গার্ল’ যথেষ্ট প্রচার সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে মনোনয়ন পায়নি।
‘লেফট-হ্যান্ডেড গার্ল’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি সীন বেকার, যিনি গত বছর ‘অনোরা’ দিয়ে অস্কার জিতেছিলেন, তার প্রযোজনা, সহ-লেখা এবং সম্পাদনা কাজের অংশ।
এই চলচ্চিত্রগুলোর প্রত্যেকটি নিজ নিজ দেশে ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে, তবু অস্কারের ভোটিং প্রক্রিয়া ও শিল্পের জটিল গঠন তাদের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করেছে।
অস্কার জুড়ে ভোটদান প্রক্রিয়া বহু স্তরে পরিচালিত হয়, যেখানে শিল্পের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী, বিতরণকারী ও প্রচারমূলক ক্যাম্পেইন সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বছরের পর বছর ধরে অস্কার ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে, তবে এখন তা একাধিক দিক থেকে সমালোচনার মুখে।
বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েও, পুরস্কার জয়ের জন্য প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কৌশলও পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অস্কার কমিটি এই বছর আরও বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ইউরোপ, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই তালিকায় দেখা যায় যে, পূর্বে অদৃশ্য ছিল এমন চলচ্চিত্র এখন প্রধান পুরস্কার ক্যাটেগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
অস্কার জুড়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের উপস্থিতি বাড়ার ফলে দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ ও গল্পের সমাহার তৈরি হয়েছে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই প্রবণতা চলচ্চিত্রের গ্লোবালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করবে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাবে।
অবশ্যই, এই পরিবর্তন সবসময়ই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; কিছু সমালোচক মনে করেন, পুরস্কার জয়ের মানদণ্ডে অতিরিক্ত বৈচিত্র্য কিছু মূল মানকে ঝাপসা করতে পারে।
তবে, অস্কার কমিটি ইতিমধ্যে এই উদ্বেগগুলোকে বিবেচনা করে ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, এই বছর অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণের মাত্রা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকগণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, আসন্ন অস্কার অনুষ্ঠানটি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করুন এবং বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ব সংস্কৃতির সমৃদ্ধি উপভোগ করুন।



