18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগত বছরে দেশে ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড, ৮৫ জনের মৃত্যু, ২৬৭ জনের আহত

গত বছরে দেশে ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড, ৮৫ জনের মৃত্যু, ২৬৭ জনের আহত

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে মোট ২৭,০৫৯টি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৮৫ জনের মৃত্যু এবং ২৬৭ জনের শারীরিক আঘাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৫টি, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে সরাসরি সম্পদের ক্ষতি প্রায় ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার হিসাব করা হয়েছে। বিপরীতে, ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩,২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, অগ্নি নিয়ন্ত্রণে সেবাকর্মীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্নি নিভানোর কাজকালে ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আর সতেরজন কর্মী আহত হয়েছেন। এই ক্ষতিগুলি ঘটনার তীব্রতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আহত কর্মীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে।

বৈদ্যুতিক গোলযোগ সর্বোচ্চ সংখ্যক অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; মোট ৯,৩৯২টি ঘটনা, যা মোটের ৩৪.৭১% গঠন করে। এর পরে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড রয়েছে, যা ৪,২৬৯টি ঘটনার মাধ্যমে ১৫.৭৮% অংশীদারিত্ব রাখে। তৃতীয় স্থানে চুলা থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড রয়েছে, যার সংখ্যা ২,৯০৯টি এবং শতাংশ ১০.৭৫%।

গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে ৯২০টি, গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৫৬২টি, এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি অগ্নিকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে। রাসায়নিক বা কেমিক্যাল দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৩৮টি ঘটেছে। এছাড়া, ছোটদের অগ্নি নিয়ে খেলায় ৬০৮টি, উত্তপ্ত ছাই থেকে ৩৫৬টি, এবং বৈদ্যুতিক কয়েল থেকে ৪৯৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই বাসাবাড়ি ও আবাসিক ভবনে ঘটেছে; ২০২৫ সালে এই ধরণের ঘটনা ৮,৭০৫টি রেকর্ড হয়েছে, যা মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩২.১৭% গঠন করে। আবাসিক এলাকায় অগ্নি ঝুঁকি কমাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস সরবরাহ এবং সিগারেট ব্যবহারের নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যান্য স্থানে ঘটনার সংখ্যা নিম্নরূপ: খড়ের গাদায় ৩,৯২২টি, দোকানে ১,৮০০টি, হাটবাজারে ১,০৬৭টি, শপিং মলে ৬১৭টি, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৬৫টি, অন্যান্য কারখানায় ৬১৫টি, গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে ৪৮৩টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ১২২টি, ছয় তলার উপরে বহুতল ভবনে ৭১টি, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে ১৫৫টি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫২টি, সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি, পাট গুদাম ও পাটকলে ১২২টি, কেমিকেল গুদাম/দোকানে ৩৬টি, বস্তিতে ৯১টি, মসজিদে ২৫টি, মন্দিরে ৯টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৩টি এবং এয়ার কন্ডিশনারে ৬২টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

পরিবহন খাতে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে ২০২৫ সালে বাসে মোট ১৫৩টি অগ্নিকাণ্ড রিপোর্ট করা হয়েছে। এই ঘটনার বেশিরভাগই যাত্রীবাহী বাসের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমের ত্রুটি বা গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজের ফলে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের পর্যালোচনা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, গ্যাস ব্যবস্থাপনা এবং ধূমপান সংক্রান্ত সচেতনতার অভাব প্রধান ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বর্তমানে প্রতিটি কারণের ওপর বিশেষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রমাণ সংগ্রহ, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।

সারসংক্ষেপে, গত বছর দেশের অগ্নি নিরাপত্তা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ রয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের রক্ষা করা সম্পদের পরিমাণ ও মৃত্যুর সংখ্যা উভয়ই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগের নিয়মিত পরিদর্শন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবা শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments