দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায় যে ৪০,২০৬টি লিখিত মন্তব্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পৌঁছেছে। এই মন্তব্যগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বসবাসকারী নাগরিকদের থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত। মন্তব্যের বিষয়বস্তু নিরাপদ বাংলাদেশ, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সরকারি চাকরির হয়রানি মুক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কার ইত্যাদি বিস্তৃত দিককে আচ্ছাদিত করে।
ঢাকা বিভাগ থেকে ১০,২১৬টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬,০০৬টি, সিলেট থেকে ১,৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২,১২৪টি, খুলনা থেকে ৪,৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩,৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫,৭৩৮টি এবং ময়মনসিংহ থেকে ১,৭৯৯টি মন্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ৪০,২০৬টি মন্তব্যের মধ্যে এই আটটি বিভাগই সর্বাধিক অবদান রেখেছে, যা দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
ভোটের গাড়ি দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরসহ দূরবর্তী অঞ্চলের ২,১৬৯টি স্পটে গিয়ে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়েছে। এই ভ্রমণটি ভোটারদের সরাসরি তথ্য প্রদান এবং মন্তব্য সংগ্রহের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। গাড়ির উপস্থিতি বহু গ্রাম ও শহরে ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।
মন্তব্যকারীরা নিরাপদ পরিবেশ, গরুর মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণ, সরকারি চাকরিতে হয়রানি মুক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার, জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, লিঙ্গ সমতা, শিশুর নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং দুর্নীতি-মুক্ত শাসনের দাবি তুলে ধরেছেন। কিছু অংশে নাগরিকরা ব্যক্তিগত দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে, আবার অন্যরা সরকারী নীতি ও কর্মপদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। এই বিস্তৃত বিষয়বস্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জনমতকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে।
মন্তব্যের মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সরকার সমালোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নাগরিকদের মধ্যে বিদ্যমান অসন্তোষের সূচক। তবে অধিকাংশ মন্তব্য গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল। এই বৈচিত্র্যময় মতামতগুলোকে সরকারী নীতি নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জনসাধারণের বিশ্বাস বাড়তে পারে।
কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, ভোটারদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ভোটদান নিশ্চিত করা দরকার এবং কেন্দ্রে অশান্তি না ঘটিয়ে ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ প্রদান করা উচিত। পেকুয়া উপজেলা থেকে একজন নাগরিক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দাবি করেন, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়। চট্টগ্রাম থেকে গলাম রাব্বানি, যিনি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত, কোম্পানির মালিককে ভোটদানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। বরিশাল থেকে সাদিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে, বলেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। পিরোজপুরের একজন মন্তব্যকারী সকল ধর্মের মানুষের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। দিনাজপুরের লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা ও বৃষ্টি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে দেশের সুষ্ঠু সংস্কার ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
বহু মন্তব্যকারী সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটের সুযোগের ওপর জোর দেন, যাতে প্রত্যেক নাগরিক তার ইচ্ছামতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, ভোটারদের কেন্দ্রে ভ্রমণ না করে স্থানীয় স্তরে ভোটদান নিশ্চিত করা উচিত, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ হয়। এই প্রস্তাবগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
এই বৃহৎ পরিসরের মতামত সংগ্রহ বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা আসন্ন নির্বাচনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোও এই জনমতকে তাদের প্রচারণা কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে, যাতে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়। মন্তব্যের বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া প্রদান প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার ও নির্বাচনী কমিশনকে এই তথ্যগুলো বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতি পরিবর্তনের সুপারিশ প্রস্তুত করবে। নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায়, এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা সীমিত, তবে জনমতের স্বীকৃতি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। শেষ পর্যন্ত, মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশিত চাহিদা ও উদ্বেগগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার সম্ভাবনা রাখে।



