আজ বিএনপি ডেবিদ্বার (কুমিল্লা-৪) নির্বাচনী এলাকা থেকে তার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মানজুরুল আহসান মুন্সিকে পার্টি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। পার্টি কর্তৃপক্ষ তার কার্যকলাপ ও ভাষণকে দলীয় নীতি ও আদর্শের বিরোধী বলে চিহ্নিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
মুন্সি, যিনি পূর্বে দলীয় বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন, তাকে সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে তার এমন কিছু বক্তব্য ও কাজ উল্লেখ করা হয়েছে, যা দলীয় শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যার স্বাক্ষর রুহুল কবির রিজভি করেছেন। রিলিজে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এমন কোনো সদস্যকে অব্যাহতি দেওয়া অনিবার্য।
একই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মানজুরুল আহসান মুন্সি ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। ভিডিওতে তিনি ভোটারদের বলছেন, অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিলে তিনি কোনো দয়া দেখাবেন না এবং বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেবেন।
ভিডিওতে তার কথায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “যদি তুমি অন্যের পক্ষে ভোট দাও, আমি তোমাকে কোনোভাবে ছাড়ব না। আমি প্রতিটি বাড়ি পুড়িয়ে দেব।” এই ধরনের হুমকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট কুমিল্লা-৪ (ডেবিদ্বার) নির্বাচনী এলাকা, যেখানে বিএনপি-নির্বাচিত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি-নির্বাচিত ১১ পার্টি জোটের প্রার্থী হসনাত আবদুল্লাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। উভয় প্রার্থীই এই আসনের জন্য তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছেন।
হসনাত আবদুল্লাহ, যিনি এনসিপি-নির্বাচিত ১১ পার্টি জোটের প্রার্থী, ভিডিওটি নিজের নিশ্চিতকৃত ফেসবুক পৃষ্ঠায় শেয়ার করেন। শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি ভিডিওটির ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করেন এবং ভোটারদের সতর্কতা জানান।
বিএনপি রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানজুরুলের বক্তব্য ও কাজগুলো পার্টির শৃঙ্খলা ও আদর্শের সরাসরি লঙ্ঘন। তাই তাকে অবিলম্বে সব পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো আচরণ পুনরাবৃত্তি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে হসনাত আবদুল্লাহ এই ভিডিওটি ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের হুমকি না দিয়ে স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করা উচিত।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উভয় দলের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডেবিদ্বার এলাকার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।
বিএনপি এখনো এই পদক্ষেপের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। পার্টি নেতৃত্বের লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। একই সঙ্গে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মানজুরুল আহসান মুন্সির হুমকিমূলক ভিডিও এবং তার পার্টি থেকে বাদ দেওয়া কুমিল্লা-৪ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঘটনার পরিণতি কী হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দলই ভোটারদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য।



