19 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দলীয় নীতি, আদর্শ ও সংগঠনবিরোধী মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার রাতের দিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মুন্সীর এমন কিছু বক্তব্য ও কাজ রয়েছে যা পার্টির মৌলিক নীতি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তাই তাকে পার্টি থেকে বাদ দেওয়া হলো।

মুন্সীর বিতর্কিত মন্তব্যটি ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যাবেলায় কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়নের বাকসার গ্রামে একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি একটি মন্তব্য করেন যা পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে।

বৈঠকের সময় তার মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সমালোচনা, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দৃষ্টিতে দেখা হয়। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যটি দ্রুত শেয়ার ও মন্তব্যের ঝড় তুলতে থাকে, ফলে পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরে আনে।

মুন্সীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল কুমিল্লা-৪ আসনের জন্য তার মনোনয়ন বাতিল হওয়া। তিনি ঋণখেলাপির দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন এবং আদালতের আদেশ অনুসারে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই ঘটনা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিমধ্যে দুর্বল করে তুলেছিল।

বিএনপি এই সিদ্ধান্তের পেছনে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। দলীয় সূত্রে জানানো হয় যে, কোনো সদস্যের এমন কোনো কাজ বা বক্তব্য যা পার্টির নীতি, আদর্শ ও সংগঠনকে ক্ষুণ্ণ করে, তা সহ্য করা হবে না এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভি বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে পার্টির নীতি-নির্ধারণের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, পার্টির স্বচ্ছতা ও ঐক্য বজায় রাখতে এধরনের পদক্ষেপ অপরিহার্য।

বিএনপি ত্রৈমাসিক সমাবেশে এই সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করা হবে এবং পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই পদক্ষেপটি পার্টির ভিতরে অন্য কোনো অনুচিত মন্তব্যের প্রতিরোধে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।

মুন্সীর বহিষ্কারের ফলে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তিনি পূর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের জন্য মনোনয়ন পেতে চেয়েছিলেন, তবে এখন তার পার্টি থেকে বাদ পড়ার পর নতুন কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে তার উপস্থিতি কীভাবে হবে তা স্পষ্ট নয়।

ঋণখেলাপির মামলাটি এখনও আদালতে চলমান এবং তার বিরুদ্ধে আর্থিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই মামলার ফলাফল তার রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি আদালত তার বিরুদ্ধে কঠোর রায় দেয়।

বিএনপি এই ঘটনাকে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পার্টির অভ্যন্তরে এই ধরনের কঠোর নীতি অনুসরণ করা হলে, সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বহিষ্কার পার্টির নীতি-নির্ধারণের প্রতি অটলতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার সংকল্পের প্রতিফলন। তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত, তবে পার্টির অভ্যন্তরে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষার প্রচেষ্টা স্পষ্ট।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments