নেপালের টিমের ক্যাপ্টেন রোহিত পাউডেল মঙ্গলবার একটি সংবাদ সম্মেলনে ভারত এ, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে দেশের কোর্টে টি২০ সিরিজের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই দলগুলো যদি নেপালে আসেন, তবে দেশের ক্রিকেটের মান ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি উভয়ই বাড়বে। আহ্বানটি নেপালের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে, যেখানে দলটি বড় বড় শক্তিকে কাছাকাছি শোয়েছে। পাউডেল বলেন, “যদি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত এ কেউ আসেন, আমাদের ক্রিকেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং গ্লোবালাইজেশনেও সহায়তা করবে।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কির্তিপুর ও কাঠমান্ডুতে নেপালীয় ভক্তদের উষ্ণ স্বাগত নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে নেপাল দলটি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড মাত্র চার রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে, তবে নেপাল শেষ ওভারে সমান সুযোগ পায়। শেষ ডেলিভারিতে সাম কার্রানের বোলিং থেকে লোকেশ বাম একমাত্র সিঙ্গল মারতে সক্ষম হন, যদিও তিনি ছয়টি রান চাওয়ার সময়ই শেষ হয়ে গিয়েছিল। একই টুর্নামেন্টে নেপাল দক্ষিণ আফ্রিকা এ-কে এক রানে পরাজিত করে চূড়ান্ত ফাইনালে পৌঁছানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। এই দুটো নিকট ফলাফল নেপালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে দলটি দ্রুত স্কোর তৈরি করে, তবে শেষের মুহূর্তে নেপালের প্রতিরোধ শক্তিশালী ছিল। সাম কার্রানের শেষ বলের ওপর লোকেশ বাম একমাত্র সিঙ্গল মারতে পারেন, যা নেপালের শেষের শটের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। শেষের ওভারে ছয়টি রান চাওয়া হলেও বাম শেষ পর্যন্ত শট নিতে পারেননি, ফলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়। নেপাল এই পরাজয় সত্ত্বেও টুর্নামেন্টে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
পাউডেল এই পারফরম্যান্সকে নেপালের ক্রিকেটের উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে, “ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষের গেমটি আমাদের জন্য অনেক বেশি দৃষ্টিপাত এনে দিয়েছে” বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও যোগ করেন, “কির্তিপুর ও কাঠমান্ডুতে আমাদের ভক্তরা উষ্ণ স্বাগত দেবে, এবং আমরা তাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত তৈরি করতে চাই।” পাউডেল জানান, নেপাল দলটি বৃহস্পতিবার মুম্বাইতে ইতালির মুখোমুখি হবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন জস বাটলারও টি২০ ফরম্যাটের সমতা সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “টি২০ বিশ্বকাপে গেমগুলো সাধারণত খুবই নিকটবর্তী হয়, এক বা দুই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।” বাটলার এই কথা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ও অপ্রত্যাশিত ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে। তার মন্তব্য নেপালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ছোট দলগুলো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
গত বছর নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে টি২০ সিরিজে দুই-এক ফলাফল দেখা গিয়েছিল, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়লাভ করে। সেই সিরিজের হেড কোচ ড্যারেন স্যামি উল্লেখ করেন, “এমন মুখোমুখি ম্যাচগুলো গেমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি আরও বলেন, “অস্ট্রেলিয়া, ভারত এ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেকোনো দল নেপালের সঙ্গে খেললে গেমের বিস্তার আমাদের দায়িত্বের অংশ।” স্যামির কথায় নেপালের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে বড় দলকে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
নেপালের ক্যাপ্টেনের আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক দলের প্রতি ইতিবাচক মন্তব্যগুলো দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ভারত এ নেপালে টি২০ সিরিজের জন্য আসেন, তবে স্থানীয় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, কির্তিপুর ও কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো ভক্তদের জন্য নতুন উৎসাহের সঞ্চার করবে। নেপালের ক্রিকেট বোর্ড এই ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সারসংক্ষেপে, নেপালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ক্যাপ্টেনের আন্তর্জাতিক আহ্বান একসাথে দেশের ক্রিকেটকে গ্লোবাল মঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ অনুষ্ঠিত হলে নেপালের ক্রিকেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং গ্লোবাল ক্রিকেটের মানচিত্রে নেপালের অবস্থান শক্তিশালী হবে।



