পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা‑দশমিনা) আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় অর্ধেকের দিকে জেলা প্রশাসকের প্রধান ফটকের সামনে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার সমর্থকদের ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী এলাকায় হিংসা, অগ্নিকাণ্ড এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান। নুরুল হক একই সময়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনাগুলো জানিয়ে দেন।
নুরুল হক বলেন, “বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন ও তার সমর্থকরা ধারাবাহিকভাবে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে তবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও ভাবতে হতে পারে। এরপর তিনি তার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেন।
প্রথমে তিনি জানিয়ে দেন, গতকাল (সোমবার) গভীর রাতে দশমিনা উপজেলার আলিপুরা ইউনিয়নে তার ‘ট্রাক’ প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নে তার কর্মী মাঈনুল ইসলামের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় একটি পরিবারকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। নুরুল হক এই দুই ঘটনার পাশাপাশি ৩১ জানুয়ারি ডাউকা ইউনিয়নে ৭‑৮ জন কর্মীকে মারধর করা, ২৬ জানুয়ারি চরবোরহান ইউনিয়নে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর এবং কয়েকজন কর্মী‑সমর্থককে মারধর করা, ২৫ জানুয়ারি চিকনিকান্দি এলাকায় পথরোধ করে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া এবং ২৪ জানুয়ারি পানপট্টি এলাকায় তার কর্মী রাকিবকে মারধর করা ইত্যাদি ঘটনার উল্লেখ করেন।
নুরুল হক জানান, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন, তবে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হতে পারে।” তিনি জোর দিয়ে বলছেন, অনিরাপদ পরিবেশে কোনোভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
হাসান মামুনের নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন নুরুল হকের অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, নুরুল হক যে অভিযোগগুলো তুলেছেন তা সত্য নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাহিদ হোসেন আরও জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে শীঘ্রই একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হবে।
এই বিবাদে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেছে; নুরুল হক নিরাপত্তা হুমকি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচলতা নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, আর হাসান মামুনের সমন্বয়ক অভিযোগকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। নির্বাচনের দিন নিকটে এ ধরনের সংঘাতের বৃদ্ধি নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভোটারদের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিকন্তু, নুরুল হক উল্লেখ করেন, তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন, যা নির্দেশ করে যে তিনি আইনি ও প্রশাসনিক চ্যানেল ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, জাহিদ হোসেনের মন্তব্যে দেখা যায় যে তিনি নুরুল হকের অভিযোগকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন এবং শীঘ্রই একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করছেন। এই ধরনের পারস্পরিক অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যানের ধারাবাহিকতা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
সারসংক্ষেপে, পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উভয় প্রার্থীর দলই তীব্র বিরোধে লিপ্ত। নুরুল হক নিরাপত্তা হুমকি ও হিংসা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, আর হাসান মামুনের সমন্বয়ক এই অভিযোগকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংবাদ সম্মেলন ও প্রশাসনের সম্ভাব্য পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা কীভাবে সমাধান হবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে কী প্রভাব পড়বে।



