১৯ জন থেরাভাদা সন্ন্যাসী ১০৮ দিন, প্রায় ২,০০০ মাইল পথ অতিক্রম করে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সিতে পৌঁছাতে চলেছে। শেষ অংশটি মঙ্গলবার আরলিংটন, ভার্জিনিয়ায় শুরু হয়, যেখানে ক্যাপিটল থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে তাদের গন্তব্যের শেষ দিক নির্ধারিত। এই যাত্রা ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হুয়ং দাও ভিপাসনা ভাভানা সেন্টারে সূচনা করা হয়েছিল।
সন্ন্যাসীরা পুরো পথে কখনো কখনো নগ্ন পা দিয়ে, কখনো তুষারময় রাস্তায় অগ্রসর হয়েছে; শীতের তীব্রতা এবং দীর্ঘ দূরত্বের চ্যালেঞ্জের মাঝেও তারা একসারি অগ্রসর হয়েছে। তাদের পদযাত্রা “শান্তি পদযাত্রা” নামে পরিচিত এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে।
গ্রুপের মেটা (Facebook) পৃষ্ঠায় সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায় সন্ন্যাসীরা তুষারভরা রাস্তায় ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে, পেছনে উষ্ণতা ও সমর্থনের চিৎকার শোনা যায়। দর্শকরা মন্তব্যে “আপনারা নিরাপদে থাকুন, এই শান্তি পদযাত্রা আমাদের সময়ের প্রয়োজন” ইত্যাদি শুভেচ্ছা জানায়।
যাত্রার শেষ পর্যায়ে সন্ন্যাসীরা ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রাল ও লিংকন মেমোরিয়াল পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছে। এই ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে তাদের উপস্থিতি ধর্মীয় সংলাপ ও সমঝোতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সন্ন্যাসী দলটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় বুদ্ধের জন্মদিন ভেসাককে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়ার অনুরোধও করবে। যদিও এই দাবি তাদের মূল লক্ষ্য নয়, তবে এটি তাদের শান্তি ও সহানুভূতির বার্তা আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।
ওয়াশিংটন এপিস্কোপাল বিশপ মারিয়ান বুদ্দে এই পদযাত্রা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, সন্ন্যাসীদের দীর্ঘ পথ এবং কোমল উপস্থিতি সকলকে করুণা ও মনোযোগের প্রতি অঙ্গীকার বাড়াতে আহ্বান জানায়। তিনি একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশে সন্ন্যাসীদের স্বাগত জানাতে সহায়তা করবেন।
সন্ন্যাসীদের গোষ্ঠীটি বিশ্বব্যাপী থেরাভাদা মঠ থেকে আসা, যার মধ্যে এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাদের বৈচিত্র্যময় পটভূমি সত্ত্বেও তারা একসাথে এক লাইনে অগ্রসর হয়ে একতা ও শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছে।
এই পদযাত্রা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রেকর্ড নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল; তবে পূর্ব উপকূলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে, যা সন্ন্যাসীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পথের তুষার গলতে শুরু করে, ফলে চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ায় সন্ন্যাসীদের প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে; অনেক ব্যবহারকারী তাদের পদযাত্রাকে “বিশ্বের দরকারি শান্তির বার্তা” বলে প্রশংসা করেন। কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ সমাজকে একত্রিত করার সম্ভাবনা রাখে।
সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে ভিক্টোরিয়াস ভিক্কু পান্নাকারা বলেছেন, যাত্রা শেষ হলে তারা যেসব মানুষকে সাক্ষাৎ করেছে তারা মননশীলতা অনুশীলন চালিয়ে যাবে এবং শান্তি খুঁজে পাবে। এই বার্তা তাদের পদযাত্রার মূল উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
১০৮ দিন, বৌদ্ধ ধর্মে পূর্ণতা ও আধ্যাত্মিক সমাপ্তির প্রতীক, এই সংখ্যা সন্ন্যাসীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি দিন একেকটি পদক্ষেপ, যা তাদের আধ্যাত্মিক যাত্রার সঙ্গে শারীরিক দূরত্বকে সমানভাবে পূরণ করেছে।
অবশেষে, সন্ন্যাসীদের এই দীর্ঘ ও কঠিন পথের সমাপ্তি শুধু শারীরিক গন্তব্য নয়, বরং মনোযোগ, সহানুভূতি ও শান্তির প্রচারকে সমর্থনকারী একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের পদযাত্রা শেষ হলেও, তাদের বার্তা ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্প্রদায়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।



