19 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসার-কেয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা

সার-কেয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা

লন্ডনের পার্লামেন্টে সোমবার সার-কেয়ার স্টারমারকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক চাপের মুখে দেখা যায়। এদিনের বিকেলে তিনি এমন এক মুহূর্তে পৌঁছান যেখানে তার নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তবে একই সঙ্গে তিনি এবং তার দল দ্রুত সমর্থন জোগাড় করে পরিস্থিতি উল্টে দেন।

শ্রম দলের কিছু সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন, এড মিলিব্যান্ড, এনার্জি সেক্রেটারি, বিবিসি ব্রেকফাস্টে উল্লেখ করেন যে দলটি “প্রান্তের দিকে তাকিয়ে” ছিল। এই মন্তব্য শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছিল এবং পার্লামেন্টের সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।

সেই একই দিনে স্কটল্যান্ডের শ্রম দলের নেতা অ্যানাস সারওয়ার গ্লাসগোতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের আহ্বান জানান, যখন ক্যাবিনেটের বেশিরভাগ সদস্য নীরবতা বজায় রাখে। ডাউনিং স্ট্রিটের কিছু কর্মকর্তাসহ অনেকেই অনুমান করেন যে স্টারমার দিনের শেষের আগে পদত্যাগ করবেন। এই অনুমানগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতার মাত্রা তুলে ধরে।

ডেভিড ল্যামি, ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার, এক্স-এ পোস্ট করে শ্রম দলের “বৃহৎ ম্যান্ডেট”কে সম্মান করার আহ্বান জানান। তার পোস্টের পর ক্যাবিনেটের অন্যান্য সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং শ্রম দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সমর্থনের বার্তা ছড়িয়ে দেন। এই সমন্বিত সমর্থন স্টারমারের অবস্থানকে দ্রুত স্থিতিশীল করে।

স্টারমারের নিকটবর্তী দলটি তৎক্ষণাৎ একটি অস্থায়ী “যুদ্ধ কক্ষ” গঠন করে, যেখানে ফোন কলের মাধ্যমে মন্ত্রীরাকে সমর্থন প্রকাশের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয় এবং নির্দিষ্ট বাক্যাংশের প্রস্তাব দেয়া হয়। এই তীব্র পেছনের কাজটি দলের অভ্যন্তরে দ্রুত সমন্বয় সাধন করে এবং সমর্থনের ধারাকে শক্তিশালী করে।

প্রায় ১৩:৩০ টায় অ্যানাস সারওয়ার এবং স্টারমারের মধ্যে সংক্ষিপ্ত ও তীব্র ফোন কথোপকথন হয়। কথোপকথনের সময় স্টারমার ধারাবাহিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যেমন তার পরিবর্তে কে আসবে, শ্রম দলের ভবিষ্যৎ কৌশল কী হবে এবং কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না। এই প্রশ্নগুলো দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে স্পষ্টতা চায়।

শ্রম দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছয়টি মূল প্রশ্ন উঠে আসে: ১) স্টারমার পদত্যাগ করলে তার পরিবর্তে কে শীর্ষস্থানীয় হতে পারে? ২) নতুন নেতা কীভাবে শ্রম দলের ভোটভিত্তি পুনরুদ্ধার করবেন? ৩) বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের পর দল কীভাবে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখবে? ৪) শ্রম দলের “বৃহৎ ম্যান্ডেট” কীভাবে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে? ৫) ক্যাবিনেটের অস্থায়ী পদগুলো কি স্থায়ী হবে নাকি পুনর্গঠন হবে? ৬) আসন্ন নির্বাচনে শ্রম দলের অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হবে? এই প্রশ্নগুলো পার্লামেন্টের আলোচনায় কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে স্টারমারের দ্রুত সমর্থন সংগ্রহ শ্রম দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদি দলটি অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সমাধান করে এবং স্পষ্ট নেতৃত্বের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, তবে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব। অন্যদিকে, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে দলটির পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে স্টারমার তার নেতৃত্ব বজায় রেখেছেন এবং ক্যাবিনেটের সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে শ্রম দলের অভ্যন্তরে এখনও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার, কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া প্রত্যাশিত, যা শ্রম দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments