ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে, ২,১০৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ বা হ্রাসের অনুমোদন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জড়িত কোনো অভিযুক্তকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিচার বিভাগের প্রধানের অনুরোধে খামেনি এই পদক্ষেপ নেন, যা মিজান অনলাইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাজা হ্রাস, মওকুফ বা পরিবর্তনের অনুমোদন অন্তর্ভুক্ত করে। অনুমোদিত তালিকায় মোট ২,১০৮ জনের নাম রয়েছে, যা ইরান সরকারের বৃহৎ পরিসরের দণ্ডমুক্তি পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
বিচার বিভাগের উপপ্রধান আলি মোজাফফারির বরাত দিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও বিক্ষোভে জড়িত অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্তরা এই মওকুফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ব্যতিক্রমটি সরকারকে বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীদের উপর কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ইরান সরকার অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে সমান ধরনের সাধারণ ক্ষমা প্রদান করেছে। ধর্মীয় বা জাতীয় ছুটির দিন, অথবা রাজনৈতিক মাইলফলকের সময়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, যা জনমতকে শান্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে।
বিক্ষোভের সূচনা ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে হয়। নাগরিকরা মুদ্রাস্ফীতি ও মৌলিক পণ্যের দাম বাড়ার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে, যা দ্রুত দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়।
প্রতিবাদটি ৮ ও ৯ জানুয়ারি সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়, যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক হিংসায় রূপান্তরিত হয়। শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়, এবং বহু প্রতিবাদকারী গ্রেফতার হয়।
তেহরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। সরকার এই ঘটনার বর্ণনা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দিয়েছে।
অধিকন্তু, ইরান সরকার দাবি করে যে প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে পরে বিদেশি উসকানির ফলে হিংসাত্মক দাঙ্গায় রূপান্তরিত হয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এই তথ্যগুলি ইরনা ও এএফপি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ঘটনাবলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে। উভয় সংস্থা ইরান সরকারের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই মওকুফের সিদ্ধান্ত সরকারকে কিছুটা নরম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের সুযোগ দেয়, তবে বিক্ষোভে জড়িতদের বাদ দেওয়া কঠোর নিরাপত্তা নীতি বজায় রাখে। ফলে, সরকার জনমতকে শান্ত করার পাশাপাশি বিরোধী শক্তিকে দমন করার দ্বৈত লক্ষ্য অনুসরণ করছে।
ভবিষ্যতে, বিচার বিভাগ মওকুফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ডমুক্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে, যখন বিক্ষোভের মূল কারণগুলো এখনও সমাধান হয়নি। ইরান সরকারকে এই পদক্ষেপের পরিণতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে, বিশেষত সামাজিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষিতে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ২,১০৮ বন্দির সাজা হ্রাসের অনুমোদন দিয়েছেন, তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জড়িতদের বাদ দিয়ে কঠোর নীতি বজায় রেখেছেন। এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



