দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রি-ইলেকশন ভ্রমণ বুমে ঢাকা থেকে ভোটারদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার দিকে ফেরার জন্য কিছু প্রার্থীর দ্বারা বিনামূল্যে নৌকা ও বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে; অন্যদিকে গাবতলি বাস টার্মিনালে টিকিটের ঘাটতি ও ভাড়ার বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
সাদারঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোটার আইডি দেখিয়ে প্রার্থীর দ্বারা ভাড়া না দিয়ে লঞ্চে চড়া ভোটারদের সংখ্যা বেড়েছে। এই লঞ্চগুলো প্রার্থী-নিয়োগকৃত, ফলে যাত্রীরা কোনো টিকিটের দরকার ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।
ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম চারটি লঞ্চ – তাশরিফ‑১, তাশরিফ‑২, তাশরিফ‑৩ এবং তাশরিফ‑৪ – ভাড়া দিয়ে ভোটারদের পরিবহন করেছেন। পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ জামাল‑৮ ও আশা‑জাওয়া লঞ্চের ব্যবস্থা করেন। স্বাধীন প্রার্থী হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ আসনে দুইটি লঞ্চ ব্যবহার করেন, আর গোনো অধিকার পার্ষদ থেকে বিএনপি‑মুখী জোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নুরুল হক নূর এমভি রয়্যাল ক্রুজ‑২ ভাড়া দিয়ে ভোটারদের নিয়ে গেছেন। ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) এর নোয়াখালী-৬ প্রার্থী হান্নান মাসুদ ঈগল‑৮ লঞ্চ সরবরাহ করেন।
এই গতি সরকারী ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে সাদারঘাটে বিশাল ভিড় তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি জানায়, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ৩৩টি লঞ্চ চলেছে, আর দিনের শেষে মোট ৬৫টি লঞ্চ প্রত্যাশিত।
নদী পুলিশ অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। অফিসার‑ইন‑চার্জ মাসুদ রানা জানান, প্রায় ৭০ শতাংশ পুলিশ কর্মীই নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত, এবং এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
গাবতলি বাস টার্মিনালে পরিস্থিতি ভিন্ন; অতিরিক্ত যাত্রী, টিকিটের ঘাটতি এবং ভাড়ার উত্থান লক্ষ্য করা যায়। গাবতলি ও আমিনবাজার থেকে অনেক ভোটার পিক‑আপ ভ্যান ও অন্যান্য গাড়িতে চড়ে ভোট দিতে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
গাজীপুরের গার্মেন্টস কর্মী রেনু আক্তার ও তার স্বামী রেঞ্জপুরে ভোট দিতে গিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় টিকিটের জন্য অপেক্ষা করেন, তবে কোনো টিকিটই পেতে পারেননি। পরবর্তীতে একটি ব্রোকার শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের বাসে একজনের জন্য ১,২০০ টাকা দামের সিট অফার করেন, যেখানে সাধারণত টিকিটের দাম ৭০০ টাকা।
শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের সুপারভাইজার কামাল স্বীকার করেন যে, বাসের ভাড়া ১,০০০ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ বাস খালি অবস্থায় ফিরে আসছে, কারণ প্রার্থীরা শিল্প এলাকার শ্রমিকদের জন্য আগাম বাস বুকিং করে রেখেছেন। কামাল জানান, মিরপুর, খয়রতপুর ও নবীনগর থেকে রাঙ্গপুর ও চাপাইয়া গন্তব্যে প্রায় চল্লিশটি বাস প্রার্থীর আদেশে পাঠানো হয়েছে।
এই ধরনের ভোটার পরিবহন ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলছে। বিনামূল্যে লঞ্চ ও বাসের মাধ্যমে ভোটারদের গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হওয়ায় প্রার্থীরা ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, আর টিকিটের ঘাটতি ও ভাড়ার বৃদ্ধি ভোটারদের ভ্রমণ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রি-ইলেকশন পর্যায়ে এই দুইটি প্রবণতা পরবর্তী ভোটিং দিনে ভোটার অংশগ্রহণ ও ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



