সৌদি আরব রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিল্ড এআই’র সঙ্গে এআই‑সক্ষম ড্রোন ক্রয়ের প্রাথমিক আলোচনায় প্রবেশ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল লাল সাগর ও আরব সাগরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ইয়েমেন ও সুদানের মতো উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি করা।
শিল্ড এআই’র ভি‑ব্যাট (V‑BAT) মডেলটি আলোচনার মূল পণ্য, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও দীর্ঘস্থায়ী পর্যবেক্ষণ মিশনে ব্যবহৃত হয়। সৌদি সরকার এই মডেলের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
ভি‑ব্যাট ড্রোনটি হাইভমাইন্ড (HiveMind) নামে উন্নত এআই সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা মানব পাইলটের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম। জিপিএস সিগন্যালের উপর নির্ভর না করে ড্রোনটি সর্বোচ্চ তেরো ঘণ্টা পর্যন্ত ধারাবাহিক উড়ান বজায় রাখতে পারে এবং জাহাজ থেকে সরাসরি উৎক্ষেপণ করা যায়।
সৌদি আরবের এই ক্রয় পরিকল্পনা মূলত লাল সাগর ও আরব সাগরের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য। বিশেষ করে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং সুদানের রাজনৈতিক অস্থিরতা অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে এই ড্রোনের ব্যবহার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সময় গৃহীত নীতি অনুযায়ী তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছিল। শিল্ড এআই’র সঙ্গে এই আলোচনাটি সেই নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে উচ্চপ্রযুক্তি অস্ত্রের রপ্তানি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অংশীদারদের মধ্যে শক্তি ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ভি‑ব্যাট ড্রোনের গোয়েন্দা ক্ষমতা বিশেষভাবে রিয়াদে উচ্চ মূল্যায়িত হয়েছে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ রেজোলিউশনের চিত্র ও ভিডিও সংগ্রহ করতে পারে, যা রিয়াদের সামরিক পরিকল্পনাকারী দলকে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এআই চালিত বিশ্লেষণাত্মক মডিউলগুলো রিয়েল‑টাইমে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করতে সক্ষম।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়ার ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ডিসেম্বর মাসে ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে একটি আমিরাতি অস্ত্র চালানে সৌদি আরবের হামলা ঘটেছিল, যা উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদের নিরাপত্তা সংস্থা ড্রোনের মাধ্যমে সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।
এআই ড্রোনের ব্যবহার রিয়াদের সামরিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় উড়ান ক্ষমতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মিশন সময়কাল সমুদ্রপথে অবৈধ জাহাজ, মৎস্য জাল বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল তৎক্ষণাৎ সনাক্ত করতে সহায়তা করবে। ফলে সামুদ্রিক সীমানা রক্ষা এবং তেল রপ্তানি রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বিশ্বব্যাপী এআই‑ড্রোন বাজারে শিল্ড এআই’র ভি‑ব্যাট মডেলটি উচ্চ প্রযুক্তি ও কম অপারেশনাল খরচের সমন্বয় ঘটায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের মতো তেল-সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের ড্রোনের ব্যবহার কেবল সামরিক নয়, বাণিজ্যিক ও মানবিক মিশনেও বিস্তৃত হতে পারে, যেমন ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ বা পরিবেশ পর্যবেক্ষণ।
সৌদি আরবের এআই ড্রোন ক্রয়ের পরিকল্পনা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন গতিবিধি আনবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়ী উড়ান সময়কাল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিক ও আইনি প্রশ্নও উত্থাপিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



