ইন্দোনেশিয়া গাজা অঞ্চলে শান্তি রক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ৮,০০০ সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন সরকার দ্বারা প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত, এবং জাকার্তার উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের পর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীর অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়। উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে এবং শান্তি রক্ষার প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পিত সেনাদলটি গাজায় গঠিত হতে যাওয়া বহুজাতিক ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) এর প্রথম পর্যায় হবে। মোট ২০,০০০ সদস্যের এই বহুমাত্রিক বাহিনীর প্রথম ভাগে ৮,০০০ সৈন্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। মন্ত্রকের মতে, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সরাসরি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
গত নভেম্বর মাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইতিমধ্যে ২০,০০০ সৈন্যকে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণকালে চিকিৎসা সেবা, জরুরি শিবির স্থাপন এবং মৌলিক স্যানিটেশন কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করেছেন, বহুজাতিক শান্তি বাহিনীর উপস্থিতি ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, মানবিক সংকট মোকাবেলায় অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক সম্পদের প্রয়োজনের দিক থেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে, জোর দিয়ে বলেছে যে সেনা মোতায়েনের কোনো রাজনৈতিক শর্ত আরোপের উদ্দেশ্য নেই। মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে মানবিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং গাজা জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি লক্ষ্য করবে।
একজন কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, “ইন্দোনেশিয়ার গাজা মিশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিক সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের বহুপক্ষীয় উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সমন্বিত কূটনৈতিক সমঝোতা ও তৎপর বাস্তবায়নের ওপর।
ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি ইতিমধ্যে গাজায় শান্তি রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে তাদের সংখ্যা ও ভূমিকা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি, যা আন্তর্জাতিক সমঝোতার পরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী বর্তমানে গাজা তে দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। প্রশিক্ষিত ইউনিটগুলো ইতিমধ্যে লজিস্টিক সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ সজ্জিত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ৪০ দিনের মধ্যে প্রথম দল গাজা তে পৌঁছাতে পারে।
এই পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়ার বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি ও মার্কিন সরকারের শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয়কে নির্দেশ করে। গাজা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবিক সহায়তার ভূমিকা শক্তিশালী করতে চায়, একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে তার প্রভাব বাড়াতে চায়।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে গাজা তে আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীর গঠন ও কার্যক্রমের বিশদ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সমন্বিতভাবে মিশনের কাঠামো, দায়িত্ববণ্টন এবং তৎপর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত থাকবে।



