ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় সপ্তাহে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটদানে অংশ নেবেন। উভয় নেতা গুলশান ও মিরপুরের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে ভোট দেবেন, যা পার্টির সংগঠন ও ভোটার উত্সাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি অফিসিয়াল সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান গুলশান-২ নম্বরের মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেবেন, যা ১/ডি ৮৬ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি গুলশান মডেল হাই স্কুলের ক্যাম্পাসে গৃহীত, যেখানে পার্টি কর্মীরা পূর্বে ভোটার তালিকা যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরের ৬০ ফিট মনিপুর বয়েজ হাই স্কুলে ভোট দেবেন। এই বিদ্যালয়টি মিরপুরের প্রধান রাস্তায় অবস্থিত এবং পূর্বে নির্বাচনী কার্যক্রমে উচ্চ উপস্থিতি দেখেছে। উভয় কেন্দ্রই শহরের প্রধান বাসস্থান এলাকা, যেখানে ভোটার ঘনত্ব বেশি।
তারেক রহমান, যিনি বিএনপির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত, পূর্বে বহু নির্বাচনী প্রচারাভিযানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে গুলশান ও আশেপাশের এলাকায় ভিত্তিক সমর্থন থেকে, এবং এই ভোটদান তার পার্টির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির বর্তমান আমির, ধর্মীয় ও সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিরপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছেন। উভয় নেতার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ জাগাতে এবং পার্টির সংগঠনের দৃঢ়তা প্রদর্শনে সহায়ক হবে।
গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোট কেন্দ্রটি ১/ডি ৮৬ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত, যেখানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে। একইভাবে, মিরপুরের ৬০ ফিট মনিপুর বয়েজ হাই স্কুলের ভোট কেন্দ্রটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশদ্বার থেকে সহজে প্রবেশযোগ্য, এবং পার্টি কর্মীরা ভোটারদের জন্য নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করবে।
উভয় কেন্দ্রে ভোটদান করা নেতাদের উপস্থিতি পার্টির ভিত্তিক ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। গুলশান ও মিরপুর উভয়ই ঢাকা শহরের দ্রুত বর্ধমান এলাকায় পড়ে, যেখানে তরুণ ভোটার ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ভোটদান কেবল ব্যক্তিগত উপস্থিতি নয়, বরং পার্টির মেসেজকে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিটি পার্টি এই মুহূর্তে ভোটার সংযোগ ও ক্যাম্পেইন কৌশলকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বিএনপি তারেক রহমানের গুলশান কেন্দ্রের উপস্থিতি স্থানীয় সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়াবে, আর জামায়াত-এ-ইসলামি ডা. শফিকুর রহমানের মিরপুর কেন্দ্রের ভোটদান পার্টির ধর্মীয় ও সামাজিক নেটওয়ার্ককে পুনরায় সক্রিয় করবে। উভয় ক্ষেত্রেই ভোটার টার্নআউট বাড়ানো এবং ভোটের সঠিক গণনা নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য।
অবশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন উভয় কেন্দ্রেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচনী কমিশন বিশেষ নজরদারি করবে। ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হলে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ নির্ধারণে সহায়তা করবে। উভয় নেতা ভোটদান শেষে পার্টির পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে অংশ নেবেন, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



