19 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআমচ্যাম মার্কিন-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাগত জানাল

আমচ্যাম মার্কিন-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাগত জানাল

ঢাকা – আজ আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচ্যাম) মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বীকার করেছে। চুক্তিতে উভয় পক্ষের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ককে সহজতর করার জন্য শুল্ক ও নিয়মাবলীর নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

আমচ্যামের সভাপতি সাইদ এর্শাদ আহমেদ চুক্তির মূল শর্তগুলো তুলে ধরে বলেন, “১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ এবং নির্বাচিত পণ্যের জন্য সুবিধাজনক বিধানগুলো আমাদের দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই শুল্ক হার এবং সুবিধা উভয় দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে স্বচ্ছতা আনবে।

প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চুক্তি দুই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার সময়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত প্রদান করে। বিনিয়োগের পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন সরকার বাংলাদেশে রেডি-মেড গার্মেন্টস রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে। শুল্কের পূর্বানুমানযোগ্যতা রপ্তানিকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে যেখানে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের বজায় রাখা জরুরি। এই চুক্তি সেই দিক থেকে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলকতা রক্ষা করবে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য শূন্য-শুল্ক প্রবেশাধিকার, শর্ত হল সেসব পণ্য মার্কিন ইনপুট ব্যবহার করে উৎপাদিত হতে হবে। এই বিধান সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীর সংহতি গড়ে তুলতে, মূল্য সংযোজন বাড়াতে এবং মার্কিন উৎপাদক ও বাংলাদেশী কারখানার মধ্যে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

সাইদ এর্শাদ আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ বাজারে প্রবেশের সুবিধা, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতা এবং মানদণ্ডের সামঞ্জস্যের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা সঠিক পথে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত। দীর্ঘমেয়াদে এই সংস্কারগুলো ব্যবসার দক্ষতা বাড়াবে, খরচ কমাবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও শিল্প উভয়েরই উপকারে আসবে।

বাণিজ্য চুক্তি শুধুমাত্র শুল্ক হ্রাসের বিষয় নয়; এটি আস্থা, নিয়ম এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এই কাঠামো তিনটি উপাদানই সমন্বিত করে, যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

আমচ্যাম চুক্তির মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে চলমান সংলাপের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়েছে। নীতি নির্ধারণে উভয় পক্ষের মতামত ও প্রয়োজনীয়তা সমন্বয় করা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা হিসেবে আমচ্যাম নীতি সংস্কার, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী সহজতর করা এবং ব্যবসায়িক বাধা কমানো তাদের মূল লক্ষ্য।

শেষে, আমচ্যাম এই চুক্তিকে আরও গভীর সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখছে। শুল্কের পূর্বানুমানযোগ্যতা, শূন্য-শুল্ক সুবিধা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারগুলো বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে, সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করবে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments