সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পেশাগত কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি সরকার গঠনের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে নিজের ভুলগুলো ভুলে যাওয়া ও ক্ষমা করার অনুরোধ করেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দিবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের অতীতের কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি নিজের ভূমিকা সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা জানান। তিনি স্বীকার করেন, “সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি।” এই মন্তব্যে তিনি নিজের অযোগ্যতা স্বীকার করে কাজের প্রতি নিষ্ঠা জোর দিয়ে বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, সরকার ছোট খামারি থেকে বড় উদ্যোক্তা পর্যন্ত সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো।” এভাবে তিনি বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে তার উত্তরসূরিরা একই ধারায় কাজ চালিয়ে যাবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি আশা করি আমার উত্তরসূরিরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।” এই বক্তব্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদী নীতি ধারার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন যে সরকারী নীতি বাস্তবায়নে সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সকল অংশীদারকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে নীতি কার্যকর হয় এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
শেখ বশিরউদ্দীন-এর এই অনুরোধ ও পরিকল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সরকারের মানবিক দিককে তুলে ধরছে। তিনি যখন ক্ষমা ও ভুলে যাওয়ার আবেদন করেন, তখন তা সরকারের স্বচ্ছতা ও জনমত গঠন প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিনি যখন পেশাগত কাজে ফিরে যাবেন, তখন তার অভিজ্ঞতা ও নীতি দৃষ্টিভঙ্গি সরকারী কাজের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য হবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।
এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সরকারী কর্মকর্তারা উপদেষ্টার পেশাগত পুনরায় সংযুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন-এর এই প্রকাশনা বাংলাদেশ সরকার গঠনের পরপরই নীতি ও মানবিক দিকের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার অনুরোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



