অর্থ উপদেষ্টা ড. স্যালেহুদ্দিন আহমেদ আজ ক্যাবিনেট কমিটি অন গভার্নমেন্ট পারচেজের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, ইন্টারিম সরকারের অধীনে তার মেয়াদ শেষের পর কোনো আইনি সমস্যার মুখোমুখি হবেন না। তিনি বলেন, তিনি সব কাজ আইনসঙ্গতভাবে এবং সীমিত বিবেচনাশক্তি ব্যবহার করে সম্পন্ন করেছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সরকার পরিবর্তনের পর প্রাক্তন মন্ত্রীদের ওপর মামলা চালু হওয়া সাধারণ, তবে তিনি নিজে এমন কোনো পরিস্থিতি প্রত্যাশা করেন না। তার মতে, তিনি কোনো অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেননি এবং সব প্রস্তাবিত বিষয় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।
ড. স্যালেহুদ্দিন আরও স্পষ্ট করেন, তিনি অন্য উপদেষ্টাদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন এবং শুধুমাত্র নিজের কাজের ওপরই আলোকপাত করতে চান। তিনি বলেন, তার অনুমোদনপ্রাপ্ত আর্থিক স্যানশনগুলো প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসারে প্রদান করা হয়েছে।
একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন, যা জটিল হলেও আইনগত কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলোকে আইনগতভাবে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ভুল সম্পর্কে প্রশ্নে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার মূলত প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণে মনোনিবেশ করেছে, ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি নয়। তিনি বলেন, ‘ভুল’ শব্দটি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত; প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, যদিও সম্পূর্ণ সংস্কার সম্ভব হয়নি।
ড. স্যালেহুদ্দিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাজের ধারায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যা সেবার গতি বাড়িয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বেশ কিছু পদ্ধতি সরলীকরণ করা হয়েছে এবং ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়গুলোকে অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এই বিবৃতি ইন্টারিম সরকারের কার্যকারিতা সম্পর্কে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সরকার পরিবর্তনের পর প্রাক্তন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা দেখায়। ড. স্যালেহুদ্দিনের মন্তব্য ভবিষ্যতে কোনো আইনি তদন্তের সম্ভাবনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অবশ্যই, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের প্রকাশনা সরকারকে আইনি ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থা জোরদার করার উদ্দেশ্য বহন করে। তবে, পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
সারসংক্ষেপে, ড. স্যালেহুদ্দিনের বক্তব্য ইন্টারিম সরকারের নীতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে, এবং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, তার মেয়াদ শেষে কোনো আইনি বাধা তার পথে আসবে না। এই অবস্থান সরকারকে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দেয়।
ভবিষ্যতে, যদি সরকার এই ধরনের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যায়, তবে তা দেশের আর্থিক ও কর ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



