সিলেটের গোলাপগঞ্জ‑বিয়ানীবাজার (সিলেট‑৬) আসনে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি ভোটারদের ওপর ভয়ভীতি সৃষ্টি, কালো টাকা ব্যবহার এবং বহিরাগত ক্যাডারের হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন।
চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তি হল, নির্বাচনী প্রচারণার ছদ্মবেশে বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগত ও সন্ত্রাসী স্বভাবের ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা হ্রাসের চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, এই গোষ্ঠীগুলি ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং ব্যালট বাক্স চুরি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভোটারদের এনআইডি কার্ড সংগ্রহ, নগদ অর্থ প্রদান এবং ভোট কেনা‑বেচার মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি‑ধমকি দিয়ে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক চৌধুরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধের নিশ্চয়তা দেন। তবে চৌধুরীর মতে, এই প্রতিশ্রুতির পরেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা সমন্বিত এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন। এছাড়া উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ফখরুল ইসলামও ভোটের মাঠে উপস্থিত।
চৌধুরী জানান, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি আরেকটি অভিযোগ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানো হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুইবারের অভিযোগের পরেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
বিএনপি প্রার্থীর মতে, বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর মোতায়েন না হওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে এই বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
অভিযোগের একটি অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের ত্বরিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে নির্বাচনী পরিবেশে অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং ভোটার অংশগ্রহণের হার প্রভাবিত হতে পারে।
অবশেষে, চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবে রূপায়িত না হলে নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের দরজা খুলে দিতে পারে।
সিলেট-৬ আসনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায়, সকল প্রার্থী ও প্রশাসনকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।



