মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সোমবার এক্সিওস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থিতিশীল পশ্চিম তীর প্রয়োজন, আর এ লক্ষ্যই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি গড়ে তোলার মূলনীতি। এই মন্তব্যটি ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সম্প্রসারণ ঘোষণার পর প্রকাশিত হয়।
হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের দৃষ্টিতে পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত বসতি নির্মাণ ইসরাইলের নিরাপত্তা ও অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পশ্চিম তীরই ইসরাইলকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হবে।
ইসরাইলের বসতি কার্যক্রমের তীব্রতা অক্টোবর ২০২৩-এ গাজা অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইলের মন্ত্রিসভা গত দুই বছর ধরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার নতুন আবাসিক ইউনিটের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে কিছু প্রকল্প ইতিমধ্যে নির্মাণে অগ্রসর। এই পরিকল্পনাগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে।
রবিবার বেজালেল স্মোটরিচ এবং ইসরায়েল কাৎজ পশ্চিম তীরে নতুন বসতি প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দেন, যা বসতিদের সংখ্যা বাড়িয়ে ইসরাইলের উপস্থিতি শক্তিশালী করবে বলে তারা দাবি করেন। উভয় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন প্রকল্পগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলের ঐতিহাসিক দাবি রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত।
বেসামরিক ও ধর্মীয় সংস্থার সমালোচনার পর, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আটটি দেশ একত্রে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে তুলবে এবং শত শত ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করবে বলে সতর্ক করেছে।
উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের সম্ভাবনা আরও দূরে সরে যাবে। আটটি দেশের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, এই ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দুই রাষ্ট্রের সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আটটি দেশই ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্য। বোর্ডটি গাজা অঞ্চলে শান্তি ও পুনর্গঠনকে সমর্থন করার জন্য গঠিত হয়েছিল, এবং সদস্য দেশগুলোর এই একতাবদ্ধ অবস্থান ইসরাইলের নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।
আট দেশের বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য, তবে অতিরিক্ত বসতি নির্মাণ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার পূর্ববর্তী গাজা শান্তি উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। যদি ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে, তবে ভবিষ্যতে আলোচনায় নতুন শর্ত আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, ট্রাম্পের মন্তব্য তার গাজা বোর্ড অব পিসের প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



